
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কানাডিয়ান কবি ও লেখিকা অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা সুইডিশ একাডেমি গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সাথে এক কৌতুকপূর্ণ ও সৃজনশীল মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্মের’ জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (১.২ মিলিয়ন ডলার)।
তার সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান আর নতুন অর্থ খোঁজার চেষ্টা। শব্দের ব্যুৎপত্তিকেই তিনি নিজের সব কাজের শুরুর জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২১ জুন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে। তার পুরো কর্মজীবনেই কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করেছেন।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষা নিয়ে অ্যান কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তার লেখায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণ, দর্শন ও আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির মেলবন্ধন দেখা যায়। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ- বিভিন্ন সাহিত্যরীতির সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজস্ব লেখার ধরন তৈরি করেছেন। ধ্রুপদি সাহিত্যের উপাদানকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরির জন্য তিনি পরিচিত।
অ্যান কার্সনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাসবেন্ড (২০০১) ও নক্স (২০১০)। বইয়ে প্রেম ও আকাক্সক্ষার অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। সাহিত্যে অবদানের জন্য অ্যান কার্সন ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ ও টি এস এলিয়ট প্রাইজসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে তার স্বতন্ত্র ও উদ্ভাবনী কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।
সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিড কার্লবার্গ বলেন, তিনি (খবরটি শুনে) অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন। আমাদের কথা বলার জন্য খুব বেশি সময় ছিল না; তিনি কেবল এটুকু বলতে পেরেছিলেন যে, তিনি এই মুহূর্তে আইসল্যান্ডে আছেন এবং সেখানে বাতাসের শব্দ শুনছেন।
কার্সনের সৃষ্টিকর্মে প্রায়ই পদ্য, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের এমন এক সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা প্রথাগত সাহিত্যিক ঘরানার সীমানা ছাড়িয়ে যায়। তিনি ২০২২ সাল থেকে আইসল্যান্ডের নাগরিকত্বও গ্রহণ করছেন।
ধ্রুপদী গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। এই অনুবাদকর্ম তার নিজস্ব সৃষ্টিশীল কাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে- যার মধ্যে রয়েছে অপেরার লিব্রেটো (গানের কথা বা চিত্রনাট্য), সাহিত্য সমালোচনা এবং ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’-এর মতো কাব্য-উপন্যাস। একাডেমি মন্তব্য করেছে, ‘তার প্রায় সমস্ত সাহিত্যকর্মই শব্দ নিয়ে ভাষাবিদের (ফিলোলজিস্ট) আচ্ছন্নতা এবং নতুন অর্থের সন্ধানে কবির আকাক্সক্ষার এক মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে।’
তিনি নিজেই শব্দ-ব্যুৎপত্তিকে তার সমস্ত কাজের সূচনা-বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ধ্রুপদী গ্রিক ভাষা থেকে তার করা অনুবাদগুলোকে স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে।
২০১৯ সালে মঞ্চস্থ ‘নর্মা জিন বেকার অফ ট্রয়’ নাটকটিতে তার লেখার শৈলী স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; এই পরিবেশনাটিতে ইউরিপিদেসের নাটক ‘হেলেন’-এর ট্রয়ের হেলেন এবং মেরিলিন মনরোর গল্পকে একীভূত করা হয়েছে। এ বছর সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় ছিলেন কার্সন। তিনি এখন আলেকজান্ডার সলঝেনিটসিন, অ্যালিস মুনরো এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিখ্যাত সব সাহিত্যিকের কাতারে যুক্ত হলেন।
সুইডিশ ডিনামাইট আবিষ্কারক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়ে আসছে। গত বছরের পুরস্কারটি জিতেছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








