
নিজস্ব প্রতিবেদক
শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪)। সংসারের অভাব অনটন আর অক্ষমতায় বাবার ভিটেবাড়ি বিক্রি করে স্ত্রীর চাকরির টাকায় কোনো রকম দিন পার করছিলেন। দুই বোনের পাওয়া বাড়ির ছাদে আশ্রয় মিললেও সেই আশ্রয়ই কাল হলো ফখরুলের। যে রুমে থাকতেন ফখরুল সেই রুমের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় নিজের বোনের হাতেই নির্মম নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ফখরুল। গত বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক হত্যা ঘটনাটি ঘটে উত্তর শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ গলির ৪৭৬/বি নম্বর বাড়িতে। এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপা ও তার স্বামী আবদুস সামাদ সুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
ফখরুলের ছোট বোন নার্গিস সুলতানা জানান, ওই বাড়িটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা তার বড় বোনের। আর চতুর্থ তলা তার (নার্গিস)। ছাদে সেমিপাকা টিনশেড দু’টি রুম তৈরি করে সেখানে স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শম্পাকে নিয়ে থাকতেন ফখরুল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং পক্ষাঘাতগ্রস্তসহ শারীরিকভাবে অনেকটাই অক্ষম ছিলেন। তার স্ত্রী গার্মেন্ট কর্মী। তাদের কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীর আয়ের টাকায় কোনো মতে খেয়ে পরে থাকতেন এই দম্পতি।
তিনি বলেন, বাড়িটি তাদের দুই বোনের হলেও আর্থিক সঙ্কটের কারণে তার ভাইকে বাসার ছাদে সেমিপাকা টিনশেড ঘর তুলে থাকতে দিয়েছিলেন। তবে ভাইয়ের কাছ থেকে গ্যাস ও পানির বিল আদায় করতেন বড় বোন। আর্থিক সঙ্কট ও অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো বিল দিতে না পারায় ভাইয়ের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন তার বোন। প্রায় সময় বাসায় এসে ঝগড়াঝাটি করতেন এবং তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলতেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসের পর থেকে তাদেরকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব জোর দিচ্ছিলেন তিনি।
নার্গিস আরো জানান, বুধবার ফখরুলের স্ত্রী যখন কর্মস্থল থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফেরেন, তখন ফখরুলকে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ওই বাসায় যায় এবং ওই বাসার নিচ তলা থেকেই বড় বোনকে আটক করে। পরবর্তীতে ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বড় বোনের স্বামী হেলমেট পরে বগলের নিচে একটি ধারালো চাপাতি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং ফখরুলের বড় বোনকে আটক করে। পরে অভিযান চালিয়ে তার স্বামীকেও আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, বাড়ির মালিকানা নিয়ে তাদের ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-ঝামেলা চলছিল। তার জের ধরেই বড় বোন ও বোন জামাই বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় ছাদে ফখরুলের রুমে ঢুকে গলা কেটে ও কুপিয়ে তাকে খুন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় তার বড় বোন এবং বোন জামাইকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








