ফ্রান্সে সরকারের আশ্বাসেও থামছে না আন্দোলন

 রয়টার্স

Advertisement

শিক্ষায় সুনির্দিষ্ট সংস্কার ও সঙ্কট সমাধানের সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থামেনি। শিক্ষক সঙ্কট দূরীকরণ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বাজেটের দাবিতে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দেশটির বিভিন্ন শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ ও রাজপথের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের একাধিক উচ্চবিদ্যালয়ে ব্যারিকেড গড়ে তুলে মিছিল ও সমাবেশ পরিচালনা করে আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, গতকাল সকালে ২২৪টি উচ্চবিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় এবং আরো ১৫১টি প্রতিষ্ঠানে আংশিক পাঠদান ব্যাহত হয়। এর মাধ্যমে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্যারিস, নঁত, রেঁন, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় ট্র্যাশ ক্যান ও কাঠ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের মূল অসন্তোষ শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত চাপ, শিক্ষক ঘাটতি, অবকাঠামোগত বেহাল দশা এবং দীর্ঘস্থায়ী স্কুল সময়সূচি নিয়ে। আন্দোলন সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাজেটের অন্তর্ভুক্ত টেকসই সমাধান উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিচালিত অনলাইন মতামত প্ল্যাটফর্মে দু’দিনেই প্রায় ৪৩ হাজার প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। 
এ পর্যন্ত ছয় হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি এই অবরোধ ও সঙ্ঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফ্রান্সের এই অসন্তোষের প্রভাব প্রতিবেশী বেলজিয়ামসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।