
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামের স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে ও পরিবারের উপার্জনের চাকা ঘোরাতে মাত্র কয়েক দিন আগে রাজধানী ঢাকায় এসেছিলেন জীবন বর্মন (২৬)। ভেবেছিলেন এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ শিখে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন। কিন্তু নির্মম নিয়তির টানে কাজে যোগ দেয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হলো তাকে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘এমআই ইঞ্জিনিয়ারিং প্লাস’ নামের একটি দোকানে এসি মেরামতের সময় কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে মারা গেছেন এই যুবক। নিহত জীবনের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাটপাড়া গোপালপুর গ্রামে; তার বাবার নাম সচিন্দ্র বর্মন। কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছেন। নয়াপল্টনের একটি ভবনের নিচতলায় ফ্রিজ ও এসি মেরামতের দোকানে কাজ নেন এবং দোকানের ওপরের তলায় অন্য কর্মচারীদের সাথে থাকতেন।
দোকানের মালিক বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, কয়েক দিন আগে দোকানে নতুন কাজ শুরু করেছিলেন জীবন। কাজ শেখা ও উপার্জনের তাগিদে তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু এই নতুন কর্মস্থলই যে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। গতকাল সকালে জীবন দোকানে একাই কাজ করছিলেন। সাড়ে ১০টার দিকে একটি এসির কম্প্রেসার মেরামত করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো দোকান কেঁপে ওঠে এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় জীবন মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আশপাশের লোকজন ও স্বজনেরা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত ও সঙ্কটজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ঢামেকের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ দিকে ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মোহাম্মদ ইয়াকুব (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতাকল সন্ধ্যার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তার ভাই জমিসংক্রান্ত ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। বিকেলে কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর এলাকায় একটি জমি দেখার উদ্দেশ্যে তিনি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্বজনেরা উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








