বিদেশের আরাম ছেড়ে দেশে চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেন

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বাংলাদেশে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিসিয়াল চিকিৎসার প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মেধাবী এই চিকিৎসক বিদেশে আরাম-আয়েশে কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে বাংলাদেশের মানুষের সেবা করতে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোসিয়াল বিভাগ চালু করে চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। সেজন্য অনেক বাধা তাকে পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু এই মানুষটিকেই অত্যন্ত অপমানজনক উপায়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সম্মানটা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন কিন্তু তার বিগত দিনের আর্থিক পাওনার কথা কখনো বলেননি। উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মরহুম অধ্যাপক মতিউর রহমান মোল্লার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়ার মাহফিলে বক্তারা এভাবেই মরহুম এই অধ্যাপককে স্মরণ করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মো: নজরুল ইসলাম, প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিসিয়াল সার্জন অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান, ডেন্টাল অনুষদের কোর্স ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন, ডেন্টাল অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. গাজী শামীম। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফিসিয়াল বিভাগের বর্তমান চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মাহমুদা আক্তার।
ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী  বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান মোল্লার জন্য শোক সভা করতে হবে কল্পনাও করিনি। ১৯৯০ দশকে তিনি চিকিৎসক হিসেবে ধানমন্ডিতে প্র্যাকটিস শুরু করেন, তখন থেকেই পরিচয়। তার ব্যক্তি ইমেজ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তার মতো একজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে অন্যায়ভাবে। অধ্যাপাক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, অধ্যাপক মোল্লা দক্ষতার সাথে দরদ দিয়ে রোগীসেবা করতেন। বেঁচে থাকা অবস্থায় আমরা তার সম্মানটা ফিরিয়ে দিতে পারিনি, এটা খুবই কষ্টের। তবে আল্লাহই তার সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই স্মরণসভায় হলভর্তি মানুষই তার প্রমাণ। অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী অধ্যাপক মতিউর রহমান মোল্লার সম্মানে ডেন্টাল অনুষদে চেয়ার প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন এবং তার নীতি ও আদর্শের জন্য তাকে একাডেমিক এক্সিলেন্সের জন্য সম্মাননা দেয়ার প্রস্তাব করেন।  
প্রোভিসি অধ্যাপক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০১ সালে সাবেক ভিসি অধ্যাপক এম এ হাদির সময় অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের (বর্তমান মন্ত্রী) পরামর্শে  তাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি সানন্দে তা গ্রহণ করেন এবং ওরাল ও ম্যাক্সিলোফিসিয়াল বিভাগ চালু করেন। এখন সারা দেশেই এই বিভাগের শত শত ডাক্তার দেশের সেবা করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এই জাতীয় সম্পদকে (অধ্যাপক মোল্লা) বিতাড়িত করা হয়। কিন্তু মামলার কারণে আমরা কিছু করতে পারিনি। তার সম্মান কিভাবে ফিরিয়ে দিতে পারি সে প্রচেষ্টা নিতে হবে।
প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মৃত্যুর দু’দিন আগেও ফোনে কথা হয়েছে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডেন্টাল ইনস্টিটিউট করার পরামর্শও দিলেন তিনি। মানুষের সেবায় গ্রামাঞ্চলেও ফ্রি ক্যাম্পেইন করেছেন। তার জন্য যতটুকু করা যায় আমাদের উচিত তা করা। উনাকে অনারারি ফেলোশিপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিপিএস। তাকে যথাযথ পুরস্কার মহান আল্লাহ তাকে দেবেন তবে তার শিক্ষা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কাজ করবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, বিদেশে আরামে জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন কিন্তু তা না করে দেশকে এগিয়ে  নিতে ফেরত এসেছেন। তিনি তার কর্মের মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন।
ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, মোল্লা স্যার আমাদের পথ দেখিয়েছেন। আমরা এনকারেজ ফিল করেছি। তিনি এই সাজেক্টের পাইওনিয়ার। তিনি তার সম্মানটা ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ সময় কাজ করতে পারলে ডেন্টালের শিক্ষার্থী ও রোগীরা উপকৃত হতো।