ক্ষমা চাইলেন কোচ সালাহউদ্দিন
সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস ও সালাহউদ্দিন : বিওএ।

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফাইনালের টিকিট না পেলেও অন্তত ব্রোঞ্জটা জিতবে-ছিল এমনই প্রত্যাশা! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও হলো না। বরং তুলনামূলক কম শক্তির শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন এক হার দেখল বাংলাদেশ, যা মনে রাখার মতো কোনো সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে না। শ্রীলঙ্কার এই দলটিতে প্রথম সারির ক্রিকেটার ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন। অন্য দিকে বাংলাদেশ খেলেছে প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে; কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। সব মিলিয়ে ২০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় পরিকল্পনাই যেন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মোস্তাফিজকে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তার ওপর আস্থা রাখার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ অনেকদিন ধরে চোটে ছিল। গত ১০ বছরে সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
তবে ব্যর্থতা যে একজনের নয়, সেটি স্পষ্ট করেছেন কোচ নিজেই। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে তার মূল্যায়ন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-২০ স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১০২ রানে অলআউট হওয়ার পর আর কোনো অজুহাত খোঁজেননি সালাহউদ্দিন; বরং সরাসরি দায় স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটি পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
অধিনায়ক লিটনের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টানা দুই ম্যাচে রান না পাওয়া এই ব্যাটারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ। তার মতে, ব্যর্থতা একজনের নয়, পুরো দলের। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি সবসময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটি নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
শুধু স্কোরকার্ড নয়, বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ধরনও হতাশ করেছে। দুই ম্যাচেই দলের ইতিবাচক মনোভাব ও মাঠের শরীরী ভাষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটারদের দেখে মনে হয়েছে, ম্যাচের চাপ সামলানোর আগেই যেন ম্যাচটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। তবে ক্রিকেটারদের চেষ্টার ঘাটতি ছিল- এমনটা মনে করেন না কোচ, ‘প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে; কিন্তু আমরা গেমপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’
কোচের স্বীকারোক্তি- ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি।’
নেতৃত্ব ছাড়ছেন না লিটন
শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের হারে এশিয়াডের ইতিহাসে প্রথমবার পদকশূন্য থাকল বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল। হতাশার সেই ম্যাচ শেষে নিজের ব্যর্থতা মেনে নিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে ব্যর্থতার ধাক্কায় এখনই নেতৃত্ব ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার!
ম্যাচ শেষে গতকাল জাপানের মাঠে সংবাদ সম্মেলনে লিটন প্রথমেই নিজের পারফরম্যান্সের দায় নেন। দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্য মার্ক। আমি দুইটা ম্যাচেই পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে এখনই অধিনায়কের পদ ছাড়তে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকে। এক দিন ভালো হবে, এক দিন খারাপ হবে। এখানে পদত্যাগের তো কিছু না।’
অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেও দলের ফল নিয়ে লিটনের কণ্ঠে ছিল হতাশা। স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাওয়া দল শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই উঠতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর অন্তত ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ ছিল; কিন্তু সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়।
লিটন বলছিলেন, ‘খুবই খারাপ লাগছে। এখানে এসেছি, টার্গেট ছিল অনেক বড়। সেটি যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। অনেক সুযোগ আমরা মিস করেছি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি তাই এমনটা হয়েছে।’
তবে দলের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ উঠতেই লিটনের বক্তব্যে উঠে আসে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটারদের অনুশীলন ও খাবারের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি। তার দাবি, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও খেলোয়াড়দের প্রয়োজনের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে জানান তিনি। ‘ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। প্র্যাকটিসের প্রয়োজন হয়। এখানে সেই ফ্যাসিলিটি আছে? একটা ক্রিকেটার কি রুমের ভেতর সারাদিন বন্দী হয়ে থাকবে? একজন খেলোয়াড়ের খাওয়াদাওয়া দিয়ে যখন কাভার আপ হচ্ছে না, তারা কি বাইরের খাবার খাবে না? তাদের তো ওই এনার্জিটা লাগবে। এশিয়ান গেমস থেকে যে খাবারটা আমাদের দেয়া হচ্ছে, সেটি যদি আমাদের জন্য উপযোগী না হয়, একটা প্লেয়ার কি খাবে না? খাবার খেতে গেলে তো বাইরে যেতে হবে। তাই করেছে প্লেয়াররা।’
লিটনের সরাসরি স্বীকারোক্তি, ‘এখন আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। দায়বদ্ধতা স্বীকার করছি, টিম হিসেবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি।’

Advertisement