বিএমইউতে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই চড়া দামে রিএজেন্ট কিনে লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

উন্মুক্ত দরপত্র (ই-টেন্ডার) ছাড়াই বছরের পর বছর বাজারদরের চেয়ে চড়া দামে চিকিৎসাসামগ্রী বা রিএজেন্ট কেনার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অনুষদে। বিশেষ করে মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে এসব রিএজেন্ট কেনা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিদিন বিভিন্ন ল্যাব পরীক্ষার জন্য শত শত রিএজেন্টের প্রয়োজন হয়। উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এসব কেনাকাটায় কোনো ধরনের স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক রিএজেন্ট গত ১৫ বছর ধরে একই কোম্পানি থেকে কেনা হচ্ছে।
বাজারদরের সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, বাতজ্বরের ‘এএসও লেটেক্স কিট’ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২,৪০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এই বিভাগে কেনা হচ্ছে ২,৫৬০ টাকায়। ‘আইসিটি টিবি ৪০-টি’ টেস্টের রিএজেন্ট বেসরকারি পর্যায়ে ৫,২০০ টাকায় সরবরাহ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কেনে ৬,০০০ টাকায়। একইভাবে ‘আইসিটি কালাজ্বর ৪০-টি’ রিএজেন্ট বেসরকারি সেন্টারে ৬,৮০০ টাকা হলেও এখানে ৭,২০০ টাকায় এবং ‘আইসিটি প্র্যাগনেন্সি ৫০টি’ রিএজেন্ট ৮০০ টাকার স্থানে ৮৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০টি রিএজেন্ট ব্যবহার হলে এবং প্রতিটিতে ৫০০ টাকা বেশি দেয়া হলে দৈনিক  আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বেসিক সায়েন্স অনুষদের অন্যান্য বিভাগেও একই প্রক্রিয়ায় কেনাকাটা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভাগে এখনো স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এক্রিডিটেশন বোর্ডে ল্যাব এটেনডেন্ট ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীকে ল্যাব ম্যানেজার পদে বসিয়ে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পদমর্যাদা ও আর্থিক নিয়মের পরিপন্থী।
বিভাগে এসব রিএজেন্ট ক্রয়ের দায়িত্বে রয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক ডা: শাহেদা আনোয়ার। এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে গত শুক্রবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। গতকাল শনিবার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: আবু নাসের ইবনে সাত্তারের অফিসে সরাসরি গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনিও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তবে অনুষদে উন্মুক্ত দরপত্র না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তদারকি জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা: সায়্যিফ উল্লাহ্ মুন্সী।
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রিএজেন্ট খুব শিগগিরই উন্মুক্ত দরপত্রের (ই-জিপি) মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ই-জিপি নিয়মকানুন জানা না থাকায় এক বছরের জন্য একজন ই-জিপি পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি দায়িত্ব নিলে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিজেরাই ই-জিপিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।’