৯ মাসে ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১১৬৩

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তি বাইরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ।
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৩৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) হাসপাতালগুলোতে। এ ছাড়া ঢাকা  উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৫ জন এবং ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ২৯৫ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫১ জন, খুলনা বিভাগে ১১১১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে নতুন কোনো রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে গত দুই দিনেই ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ১৪১ জন। এ বছর জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৬২ জন।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২৫০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭০ জন, উত্তর সিটিতে ৩০ জন এবং সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ১৬ জন রয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪ জন, ময়মনসিংহে ২১ জন, বরিশালে ১৯ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গুতে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের  বেশির ভাগই শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছেন। দেরিতে আসার কারণে শরীরে জটিলতা তৈরি হয়ে ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিউর’ হচ্ছে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে আসার আগে সঠিক চিকিৎসার অভাবে জটিলতার মুখোমুখি হন।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে জ্বর হওয়ামাত্রই ডেঙ্গু পরীক্ষা করা জরুরি। ডেঙ্গু ধরা পড়লে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত হাসপাতালে বা রেজিস্টার্ড মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সারা দেশে চিকিৎসকদের কাছে ডেঙ্গু চিকিৎসার হালনাগাদ গাইডলাইন পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তারা আরো সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গুতে জ্বর সেরে যাওয়ার পরবর্তী সময়টি সবচেয়ে বিপজ্জনক হতে পারে। তাই জ্বর কমলেই রোগী ঝুঁকিমুক্ত-এমনটা মনে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে। 
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে আরো চারজন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে চলতি বছরে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৮ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৯ জন ডেঙ্গুরোগী। শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত চারজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি ৩৯ রোগীর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে ১, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৯, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ৫ এবং নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত শনাক্ত ৪৩৮ জনের মধ্যে হবিগঞ্জে ১৮৭, সুনামগঞ্জে ৯৯, সিলেটে ৯৪ এবং মৌলভীবাজারে ৪৫ জন রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরো ১৩ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন।
চলতি বছর সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় একজন করে মারা গেছেন।