শ্রমিক অসন্তোষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইউএনবি

শিগগিরই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Advertisement

আজ সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

শ্রমিক সংগঠন, গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন ও সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেয়। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধিদের নাম দেয়।

মজুরি বোর্ড রোববার গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়, তাদের জীবনমানের উন্নতি হয় এবং তাদের সব বিষয় বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে মজুরি নির্ধারণ করা হয়।’

আগামী ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা তিন বছর পূর্ণ হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এ নিয়ে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদে সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কিছু শিল্প মালিক, মিল মালিক জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারেও, যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কি না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় আন্দোলনের নামে তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কাজ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, রোববারই এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অডিও, ভিডিও ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরকার ও মালিকপক্ষের আলোচনায় এসেছে। মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেসব শিল্পমালিক ও কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তাদের তালিকা দিতে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এসব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের তালিকাও মালিকপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না।

যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তারা শ্রমিক নয়; বরং পতিত শক্তির চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইতে পারেন না। গত কয়েক দিনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জড়িত নন বলে সরকার বিশ্বাস করে।

কেউ ভুলক্রমে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকলে তাদের তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ইউএনবি