পাচার হওয়া টাকার হিসাবই নেই সরকারের কাছে

 সংসদ প্রতিবেদক 

Advertisement

দেশ থেকে গত ১৬-১৭ বছরে বিদেশে কত টাকা পাচার হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব সরকারের কাছেই নেই। এমনকি পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে চলমান তদন্ত কত দূর এগিয়েছে কিংবা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে সুনির্দিষ্ট কী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি; অথচ আদালতের আদেশে গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশী-বিদেশী ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ সংযুক্ত, জব্দ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
এ অবস্থায় মোট কত অর্থ পাচার হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি কতটুকু এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরানোর পরিকল্পনা কীÑ এসব প্রশ্ন তুলেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠক শেষে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছেÑ এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর সংশ্লিষ্টরা দিতে পারেননি। একইভাবে তদন্ত কত শতাংশ এগিয়েছে এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়েও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। 
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প থেকে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা, ১১টি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি), ১৪২টি মামলা, ১৫৮ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং আদালতের নির্দেশে ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ জব্দ, সংযুক্ত বা ফ্রিজ করার তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে মোট পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট হিসাব দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ। 
কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১১টি গ্রুপকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হলেও এর বাইরে ব্যক্তিপর্যায়েও বহু অর্থপাচারের ঘটনা থাকতে পারে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কত অর্থ পাচার হয়েছে, সে হিসাবও কর্তৃপরে কাছে আছে কি নাÑ সে প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ১৫৮ জনের মধ্যে কতজন দেশে ও কতজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়েও বৈঠকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ। 
বৈঠকে কমিটির সভাপতি রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে সদস্য ইকরামুল বারী টিপু সভাপতিত্ব করেন। এতে কমিটির সদস্য মো: সেলিম রেজা, মো: আব্দুল আজিজ, মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোসাম্মৎ সাম্মী আক্তার, মো: রফিকুল ইসলাম খান ও মো: মাসুদ পারভেজ অংশ নেন। 
১১ অগ্রাধিকার মামলা 
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প থেকে জানানো হয়, তিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক তি পুনরুদ্ধারের ল্েয বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদের বিরুদ্ধে আইনি পদপে নিচ্ছে। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমও চলছে। একই সাথে অবৈধ সম্পদের উৎস, অর্থপাচারের পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অপরাধের সাথে সম্পদের সম্পর্ক নির্ণয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 
জমি, বাড়ি, ফ্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বিও হিসাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ তহবিল শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম বা জেআইটি কাজ করছে। 
বিদেশে পলায়ন কিংবা পাচারকারীদের সম্পদ স্থানান্তর ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশের অনুরোধ পাঠানো এবং পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি। বৈঠকে উত্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ মোকাবেলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স বা অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ) গঠন করা হয়েছে। এর সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। 
এআরটিএফে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
টাস্কফোর্সের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ শনাক্ত করা, চুরি হওয়া সম্পদ স্থানান্তরের তদন্ত, অর্থ ফেরত আনার েেত্র আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে তা দূর করার জন্য নীতি গ্রহণ, যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সেসব দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং পুনরুদ্ধারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সম্পদ অনুসন্ধান, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও লিগ্যাল রিভিউ টিমকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। 
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলার তদন্তে ১১টি জেআইটি গঠন করা হয়েছে। এসব জেআইটির আওতায় রয়েছে এস আলম গ্রুপ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল, বসুন্ধরা গ্রুপ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী-সংক্রান্ত মামলা। 
১৪২ মামলা, চার্জশিট ১৬টিতে 
গত আগস্ট পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যক্রমের তথ্যানুযায়ী, অর্থপাচারসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে ১৪২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় আদালতের রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৭৬২ জনের বেশি সাী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে ১৫৮ জনের ওপর। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের জন্য আদালতের ১০টি আদেশ পাওয়া গেছে। আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দ, সংযুক্ত ও ফ্রিজ করার পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদেশী কর্তৃপরে সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। 
আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। সম্পদের অবস্থান শনাক্তকরণ, মালিকানা যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশী বিচারব্যবস্থার সাথে সমন্বয়ের কারণে অনেক েেত্র কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একই সাথে ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 
৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার সম্পদ 
১৯ আগস্ট পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশীয় স্থাবর সম্পদ ১০ হাজার ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, দেশীয় অস্থাবর সম্পদ ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা, বিদেশী স্থাবর সম্পদ ১৫ হাজার ১২৪ কোটি এক লাখ টাকা এবং বিদেশী অস্থাবর সম্পদ চার হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকাÑ সব মিলিয়ে ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ সংযুক্ত, জব্দ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে জমি, বাড়ি, ফ্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বিও হিসাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ তহবিল রয়েছে। 
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ১৬টি জুরিসডিকশনের কাছে মোট ৩০টি এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়া ও হংকং, চীনের সাথে দু’টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি বা এমএলএটি সম্পন্ন হয়েছে। 
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ, জাতিসঙ্ঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি, এআরআইএন-এপি এবং গ্লোব নেটওয়ার্কের সাথে আন্তঃসীমান্ত তদন্ত ও কারিগরি সমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে। 
ছয় গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম 
বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি কার্যক্রমও শুরু করেছে তিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো। ঋণের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর এবং পরে বিদেশে পাচারের কারণে সৃষ্ট আর্থিক তি পুনরুদ্ধারে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, সংরণ ও উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
প্রাথমিকভাবে বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ও প্রমাণের গুরুত্ব বিবেচনায় ছয়টি ঋণগ্রহীতা গ্রুপকে প্রথম ধাপের দেওয়ানি কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ। এসব গ্রুপ নির্বাচনের েেত্র অধিক পরিমাণ নন-পারফর্মিং লোন, বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে বিদ্যমান গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণ এবং ব্যাংক থেকে গোপন বা অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহণের তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে। ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গ্রুপের মধ্যে এই ছয় গ্রুপের মাধ্যমে আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলারের এনপিএল সৃষ্টি হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। 
দেওয়ানি কার্যক্রমে কনসোর্টিয়ামভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো পৃথকভাবে নয়, সম্মিলিতভাবে সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি ঋণগ্রহীতা গ্রুপের জন্য এক বা একাধিক লিড ব্যাংক নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লিড ব্যাংক আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে সমন্বয় করে তিগ্রস্ত সব ব্যাংকের পে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 
সবচেয়ে তিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে আটটি ব্যাংককে ছয়টি কনসোর্টিয়ামের লিড ব্যাংক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সাথে কাজ শুরু করেছে। অর্থ উদ্ধারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের মধ্যে নন-ডিসকোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কিছু েেত্র এনগেজমেন্ট লেটারও স্বারিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। 
প্রথম ধাপের ছয়টি ঋণগ্রহীতা গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি বিদেশে সম্পদ এবং উল্লেখযোগ্য ঋণ এক্সপোজার রয়েছে এমন অন্যান্য ঋণগ্রহীতা গ্রুপের বিরুদ্ধেও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরো ৪০টি ঋণগ্রহীতা গ্রুপকে দ্বিতীয় ধাপের দেওয়ানি কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ আনুমানিক দুই বিলিয়ন ডলার। 
‘ব্যক্তি পর্যায়ের পাচারের হিসাবও নেই’ 
কমিটির সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার ১১টি কোম্পানি বা গ্রুপকে অর্থপাচারের সাথে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু এসব কোম্পানি বা গ্রুপের বাইরে বহু ব্যক্তি বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকতে পারেন। ব্যক্তি পর্যায়ে কত টাকা পাচার হয়েছে, সেই হিসাবও কর্তৃপরে কাছে আছে কি নাÑ এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। 
অর্থ পাচারের তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ২৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ পর্যন্ত যে পাচারের ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে, সেই তদন্তের কত শতাংশ অগ্রগতি হয়েছেÑ জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।’ 
অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৫৮ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত টাকা পাচার বা বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ১৫৮ জনের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, এই ১৫৮ জনের মধ্যে বর্তমানে ক’জন দেশে আছে, ক’জন বিদেশে চলে গেছে। তারা তাও জানাতে পারেনি। কমিটির প থেকে এসব তথ্য পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে বলা হয়েছে।