
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়া বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সেন্টারটির একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাকা ভবনের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাকক্ষ ও ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে সেন্টারে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। এ সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। এতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। সে সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষর ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
রাড্ডা সেন্টারটি ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনার মধ্যে গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।
বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিনে ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকেও বহিষ্কার করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কমিটি দুটির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








