প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে জনতার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে জনতার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দেশে ২০ কোটি মানুুষ। এখানে ভালো-মন্দ দুই-ই আছে। কিছু কিছু দুষ্ট মানুষ কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিএনপিকে যেহেতু দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি সব শক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে, আইন সবার জন্য সমান। বিগত ১৭ বছর কিভাবে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চায়। অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের ৭১ সালে কি ভূমিকা ছিল? ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছে তারা। ৭১ সালের মতো এখনো গুপ্ত বাহিনী নারী নির্যাতন করছে উল্লেখ করে তাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরামে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং বিকেলে ফুলগাজী উপজেলায় হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গত ১৭ বছর স্বৈরাচার দেশের মানুষকে টুঁটি চেপে ধরেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, মানুষকে কথা বলতে দেয়নি। মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেনি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছে। গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারের সময়ে দেশের বিভিন্ন বন্ধ কলকারখানাগুলো আবার চালু করতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে সরকারের পক্ষ থেকে চালুর ব্যাপারে কথা বলেছি। বন্ধ কারখানা আবারো চালু হলে দেশের সন্তানদের কর্মসংস্থান হলে দেশ ও তাদের পরিবার স্বাবলম্বী হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরো বলেছেন, এই সেই ফেনী যেখানে গত ১৭ বছরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনীতিক দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন, নির্যাতন ও গায়েবি মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। যারাই মানুষের ভোটের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে, তাদের কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সমাবেশে পরশুরাম  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুর দাবির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। 

ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুলের জনসভায় ফেনী-১ আসনের এমপি মুন্সী রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরামে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক। অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গ্রামবিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জালাল আহম্মদ মজুমদার, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ নুর আহম্মদ মজুমদার পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক প্রমুখ। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে। তাই আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কৃষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সাধারণ মানুষের সাথে আমরা আছি। যারা হত্যার রাজনীতি করে তাদের কাছে জনগণের জন্য কিছু নেই। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় এ দেশে স্বৈরাচারের উত্থান হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বহু বছর পর আজকে এখানে এসেছি। নানাবাড়ির লোকজনরা আমাকে দেখে রাখতে হবে। মা যেহেতু নেই। মা মারা গেছেন, এখন আপনারা আমাকে দেখে রাখবেন। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছি ফ্যামিলি কার্ড দেবো। কৃষক ভাইদের মাঝে কৃষক কার্ড দিয়েছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অর্থসহায়তা দিয়েছি। জনগণের অর্থ অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি। এই এলাকায় বন্যায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি দেশের বন্যা ও কৃষিকাজের জন্য উপকৃত হয়েছে। গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে কষ্ট করতে হয়। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ বেড চালু করে। পরে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ৫০ বেড করেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ বেড করা হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে এখানে যারা মেডিক্যাল কলেজ দাবি করেছেন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। 

রামগতিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

 কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জলবায়ু সহিষ্ণু ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং কৃষকদের আত্মসামাজিক মর্যাদা ও জীবন মান উন্নয়নের  লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় পর্যায়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় উপস্থিত থেকে একযোগে দশটি উপজেলার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন যুক্ত হয়ে রামগতির কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। 
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি, কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আবু তারক, উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ,  স্থানীয় বিএনপির নেতারা, সাংবাদিক এবং সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। 

লালমোহনে কৃষক কার্ড বিতরণ 

লালমোহন (ভোলা)  সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলার লালমোহনে কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ-২০২৬ কর্মসূচির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষক কার্ডের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার   খলিল আহমেদ, ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ সিফাত বিন সাদেক, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌরসভা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষকসহ অন্যরা।