বায়ুদূষণে বছরে লক্ষাধিক প্রাণহানি, কমছে গড় আয়ু

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বায়ুদূষণ কেবল একটি সাধারণ পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি বর্তমানে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ ও নীরব জনস্বাস্থ্য সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। দেশে প্রতি বছর বায়ুদূষণজনিত নানা জটিল রোগে প্রায় এক লাখ দুই হাজার ৪৫৬ জনের মৃত্যু হচ্ছে। একই সাথে বিষাক্ত বাতাসের কারণে বাংলাদেশীদের গড় আয়ু আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমে যাচ্ছে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ব্রিদ কোলিশন’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার এসব উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য, সংক্রামক ও জীবনঘাতী সঙ্কট। এটি মোকাবেলায় অবিলম্বে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবীর সভাপতিত্বে এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো অংশ নেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো: মাসুদ পারভেজ অভি ও স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো: আশরাফুল ইসলাম।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বায়ু ছাড়া মানুষ এক মিনিটও বাঁচতে পারে না, অথচ সেই প্রাণঘাতী উপাদানটি নিয়ে আমাদের দেশে গবেষণা খুবই অপ্রতুল। নির্ভরযোগ্য গবেষণা ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। তাই বায়ুর মান ও উৎস চিহ্নিত করতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ুদূষণ গবেষণা সেল গঠন করা প্রয়োজন।’
সংবাদ সম্মেলনে যুব ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’সহ সব নীতি ও কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হল- বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর টাস্কফোর্স গঠন করা এবং দূষণের অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু করা। ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ নীতি প্রয়োগ করে দূষণকারী শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা।
দেশের সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে লাইভ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স প্রদর্শন এবং প্রতিদিন বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশ। নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক পানি ছিটানো ও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।
চরম বায়ুদূষণের সময় জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা, ট্রাফিক পুলিশ ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশাজীবীদের জন্য বিনামূল্যে উন্নত মাস্ক সরবরাহ এবং জাতীয় বাজেটে বায়ুদূষণ নিরসনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানো। সংবাদ সম্মেলন থেকে নীতি প্রণয়নে তরুণ গবেষক ও ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী বিস্তৃত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানানো হয়।