চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৩,৬৩০ কোটি টাকা অনুমোদন

  বিশেষ সংবাদদাতা

Advertisement

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করতে তিন হাজার ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন। প্রকল্পের আওতায় সড়ক, বর্জ্য শোধনাগার, জেটি ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ সার্বিক নাগরিক উপযোগ সেবা নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রস্তাবনায় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) বাস্তবায়নে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’-এর পূর্ত কাজ পরিচালনা করবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্র মূল্যায়ন শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। চলতি বছরের ২০ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হবে- ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ (১০ মিটার প্রশস্ত) এবং ১,১৮১ মিটার দীর্ঘ (২৪ মিটার প্রশস্ত) দু’টি সড়ক ও ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর। দৈনিক ৪.২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইন, দু’টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটারের পানি সংরক্ষণাগার, দৈনিক ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার বর্জ্যপানি শোধনাগার (ইটিপি) এবং কঠিন বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক শোধনব্যবস্থা। ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বহুমুখী জেটি। সমুদ্রপথে আমদানি করা তেল দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে নির্মিত ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের কার্যক্রম চালু রাখতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ‘পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেনটাল’-কে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে কর ও ভ্যাটসহ আগামী পাঁচ বছরের জন্য এক হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার ২৭ টাকা (১২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয় করা হবে। আন্তর্জাতিক পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়ায় সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি মনোনীত হয়।
বৈঠকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের জন্য গ্যাস অয়েল (ডিজেল) ও জেট এ-১ আমদানির উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র বাতিল করেছে কমিটি। অন্য দিকে, কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বিদ্যমান চুক্তি মূল্যের চেয়ে কিছুটা কম মূল্যে (জেএমকে থেকে ০.০২ ডলার কম) অতিরিক্ত ২ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই এলএনজি আগামী ৬ ও ২২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কেনা হবে।