
টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও তা মোকাবেলায় একটি বিশেষ গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, ‘টিকার কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে যেসব রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। তাদের অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া বা তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।’
আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার উদ্যোগের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং অন্যান্য চিকিৎসাবিশেষজ্ঞের সমালোচনার মুখে পড়েছেন কেনেডি।
অন্য ওষুধের মতো টিকারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সামান্য জ্বর কিংবা টিকা দেয়ার স্থানে ব্যথার মতো মৃদু উপসর্গ।
তবে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল। টিকার উপকারিতা ঝুঁকির তুলনায় বেশি কি-না, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এসব প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হামসহ বিভিন্ন রোগের টিকা প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু প্রতিরোধে সহায়তা করে।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা ও নীতিবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক এবং মহামারিবিদ মাইকেল অস্টারহোম যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেন, ‘মূল প্রশ্নটি টিকার নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করা উচিত কি-না, তা নয়। অবশ্যই গবেষণা করা উচিত। তবে টিকাদানের সাথে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে কি-না, তা নির্ধারণে আমাদের আগে থেকেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।’
রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, নতুন এই উদ্যোগ এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা ‘প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে এবং গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে টিকাকে আরো নিরাপদ করবে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার এটাই উপায়’।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাজেট কাটছাঁটের মধ্যে এ ঘোষণা এলো। একই সময়ে দেশটি গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি আবারো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে টিকা না নেয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়াকেও এ পরিস্থিতির অন্যতম উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ২০২৬ সালেই সেখানে হাম-সম্পর্কিত পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








