
রাশিদুল ইসলাম
লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় দেশবাসী যখন বিরক্ত তখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো কোনো সুখবর দিতে পারছে না। গত এপ্রিলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পর সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। জাতীয় গ্রিডে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশার বাণী শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এখন কেউ বলতে পারছেন না রূপপুর থেকে কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। চলতি সেপ্টেম্বরে সেখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে এবং এ বছরেও পাওয়া যাবে কি না- তারো কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এর কারণ পারমাণবিক চুল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখনো উত্তীর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে পারমাণবিক চুল্লির পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ব নামে একটি যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইউনিট-১এ এ ধরনের ভাল্ব রয়েছে মোট চারটি। তিনটিতে কোনো ত্রুটি নেই। একটির ত্রুটি মেরামতে রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ এসে গত ১৫ দিন ধরে কাজ করছেন। তাদের সাথে কাজ করছেন দেশী প্রকৌশলীরাও। ত্রুটি সারাতে তারা দিনরাত কাজ করে গলদঘর্ম হলেও কোনো সুখবর পাওয়া যাচ্ছে না।
সূত্রগুলো জানায়, যেকোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছোট বড় শত শত পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এ পর্যন্ত ৯০টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দেশী ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র পাওয়া বাধ্যতামূলক। রূপপুরের ক্ষেত্রে যেহেতু যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হচ্ছে না তাই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কারো পক্ষেই বলা সম্ভব না রূপপুরের বিদ্যুৎ কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে এবং ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত তা বাড়তেই থাকবে। একই কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সব পক্ষের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো মুখপাত্র নেই বা কোনো মিডিয়া সেলও করা হয়নি। নিয়মিত ওয়েবসাইট আপডেট না থাকায় রূপপুর নিয়ে মানুষ অন্ধকারেই আছে। মানুষের মধ্যে রূপপুর নিয়ে আশার বদলে উদ্বেগ বাড়ছে, জনমনে সন্দেহ নাশকতা কি না- লোডশেডিংয়ের চাপে সমালোচনাসহ অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনটা না হলে মানুষের মনে অহেতুক প্রশ্নের তৈরি হতো না, নির্ধারিত তারিখে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হলে মানুষ আস্থা পেত।
সেফটি ভাল্ব কী কাজ করে
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি রিলিফ ভাল্বের প্রধান কাজ হচ্ছে চুল্লির প্রাথমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ থেকে সুরক্ষা দেয়া এবং তাপ ও চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা। রান্নাঘরে প্রেসার কুকারে রান্নার সময় অতিরিক্ত চাপ যেমন বের হয়ে যায় এবং নিরাপদে রান্না চলে অনেকটা তেমন। সেফটি ভাল্বে ত্রুটির কারণে দুই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় ঘটতে পারে। সেফটি ভাল্ব ঠিক সময়ে না খুললে সিস্টেমের ভেতরের চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার পরও ত্রুটির কারণে ভাল্বটি বন্ধ থাকলে বিস্ফোরণ ও পাইপলাইন ফেটে যেতে পারে। রি-অ্যাক্টর ভেসেল বা সংযুক্ত প্রধান পাইপলাইনের ভেতরের চাপ সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেলে সেটি মারাত্মক বিস্ফোরণে ফেটে যেতে পারে। ভেসেল বা কন্টেনমেন্টের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিকর পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা সরাসরি বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ ছাড়া সেফটি ভাল্ব খুলে যাওয়ার পর আর না বন্ধ হলে ভাল্বটি অতিরিক্ত চাপ কমানোর জন্য একবার খোলার পর যদি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবার পুরোপুরি লক বা বন্ধ না হয়, তবে শীতলীকরণ তরল বা কুল্যান্টের ঘাটতি অর্থাৎ রি-অ্যাক্টর ভেসেল থেকে ক্রমাগত উচ্চচাপের পানি বা বাষ্প বের হয়ে যায়।
কী কী কারণে ভাল্বে ত্রুটি হতে পারে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি ভাল্বে ত্রুটি মূলত প্রাক-কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক ধাপের সময় ধরা পড়ে, যা বিভিন্ন কারিগরি ও অপ্রত্যাশিত জটিলতার কারণে হতে পারে। সেফটি ভাল্ব ত্রুটির সম্ভাব্য কারণ হতে পারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া বা কম্বাইন্ড বা প্রি-অপারেশনাল টেস্টের (যেমন ‘বি’ স্টেজ থেকে ‘সি’ স্টেজে যাওয়ার আগের পরীক্ষা) সময় নির্ধারিত চাপ ও তাপমাত্রার মানদণ্ডে ভাল্বগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। ডিজাইন ও ম্যানুফ্যাকচারিং ত্রুটি যেমন পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ব বা প্রেশারাইজার সেফটি রিলিফ ভাল্বের ভেতরের মেকানিজম বা যন্ত্রাংশে উৎপাদক কারখানার লুকায়িত বা অপ্রত্যাশিত ত্রুটি থাকতে পারে। উপাদান ও কারিগরি জটিলতা হিসেবে রি-অ্যাক্টরের প্রাইমারি কুলিং সিস্টেম ও প্রেশারাইজারের অতি উচ্চ চাপ এবং তাপ সহ্য করার ক্ষমতার সাথে ভাল্বের উপাদানের সামঞ্জস্যের অভাব বা নিখুঁত ফিটিংয়ে সমস্যা থাকতে পারে। ভাল্বে ত্রুটির নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে তদন্ত করছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা। তারা পরীক্ষা করে দেখছেন ভাল্বের নবায়ন নাকি সম্পূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন।
বিকল্প সমাধান কী হতে পারে
সেফটি ভাল্বের ত্রুটি চিহ্নিত করে মেরামত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। রুশ পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ চালু করতে ইউনিট-২ থেকে একটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ব ইউনিট-১-এ স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। যেমন মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্য স্টেশন থেকে যন্ত্রাংশ খুলে এনে তা চালু করা হয়েছিল। তবে ইউনিট-২ থেকে সেফটি ভাল্ব ইউনিট-১ এ স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে দিতে হয়েছে এবং তা মেরামতের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ দেয়া অসম্ভব
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নিয়ে সঙ্গত কারণেই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সংস্থার পক্ষে বলা হচ্ছে, তারা সবকিছু নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি এবং কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, সেটি কিভাবে সমাধান হচ্ছে- সেগুলো সব দেখে নিশ্চিত হয়ে তবেই লাইসেন্স দেয়া হবে।
পরমাণু বিজ্ঞানীরা বলছেন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিজাইনে রাশিয়া এবং বেলারুশে এর রেফারেন্স প্ল্যান্ট আছে। সুতরাং এর সম্ভাব্য সমস্যা কী হবে এবং তার সমাধান কী এগুলো ঠিকাদার এবং বাস্তবায়নকারী পক্ষের মধ্যে চুক্তি অনুসারে আগাতে হবে। তবে চুক্তিতে সে ধরনের সুযোগ রয়েছে কি না- সেটিও এক বড় প্রশ্ন। এ জন্য প্রয়োজন জ্বালানি লোডিংয়ের পরবর্তী ধাপে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইউনিট কমিশনিং শিডিউল’ চুক্তি থাকা। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার এই লিখিত চুক্তিতে কবে কোন পরীক্ষাটি হবে, কিভাবে হবে, সমস্যা হলে তার সমাধান কী এসব বিষয় লিখিত ডকুমেন্ট থাকে। বিলম্ব হলে তার জন্য ঠিকাদার কী ক্ষতিপূরণ দেবে সেটিও উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশে এ রকম কোনো চুক্তি আছে কি না- তা মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
রুশ কোম্পানি রোসাটমের সাথে চুক্তি অনুসারে কোম্পানিটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সার্বিকভাবে চালাবে। যন্ত্রাংশ বা মেরামতের প্রয়োজন পড়লে তা সম্পন্ন করে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের হাতে দিতে হবে। যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়লে বিকল্প যন্ত্র নিয়ে আসাও বেশ সময়সাপেক্ষ। চাইলেই পাওয়া যায় না বা তৈরি থাকে না। বিশেষ ডিজাইনের অর্ডার দিয়ে আনতে হয় বলে কারো পক্ষেই তা এনে কবে নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু সম্ভব তা বলা সম্ভব নয়। কেউ অনুমাননির্ভর বললেও দীর্ঘ জটিল পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে কারিগরি ত্রুটি দূর না হলে তা ভেস্তে যেতে পারে। এমনকি ত্রুটি দূর হলেও তা পর্যালোচনা করে দেখবে একাধিক কর্তৃপক্ষ। শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদনের ছাড়পত্র মেলার কোনো নজির নাই। অনুমান করা হলেও তাড়াহুড়ো না করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যেতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সেফটি ভাল্ব ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি ভাল্ব সঠিক সময়ে কাজ না করা বা খোলা অবস্থায় আটকে যাওয়ার কারণে ইতিহাসে বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৯ সালে থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুতের ইতিহাসে সেফটি ভাল্ব জনিত সবচেয়ে বড় ও আলোচিত দুর্ঘটনা। এর ফলে পর্যাপ্ত শীতলীকরণের অভাবে রি-অ্যাক্টর কোরের প্রায় ৪৫ শতাংশ গলে যায়।
এর দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ওহাইও’র ডেভিস-বেসি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৯ শতাংশ ক্ষমতায় চলার সময় এর প্রেসারাইজার সেফটি রিলিফ ভাল্বটি খুলে যাওয়ার পর আবার বন্ধ না হওয়ায় খোলা অবস্থায় আটকে থাকে। তবে অপারেটররা দ্রুত (২০ মিনিটের মধ্যে) ভালভটির ত্রুটি শনাক্ত করে ব্যাকআপ ব্লক ভাল্ব বন্ধ করে বড় বিপর্যয় এড়ান।
১৯৯৪ সালে কানাডার ওন্টারিওতে পিকারিং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি ভালভের গাঠনিক উপাদানের ত্রুটির কারণে ২ নম্বর ইউনিটে একটি লিকুইড রিলিফ ভাল্বের ভেতরের রাবার ডায়াফ্রামটি ফেটে যায় এবং ভাল্বটি খোলা অবস্থায় আটকে যায়। এর ফলে রি-অ্যাক্টর থেকে প্রচুর পরিমাণে শীতলীকরণ তরল বের হতে শুরু করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরো দু’টি সেফটি ভাল্ব চালু হয়, যার একটিতে তীব্র কম্পন তৈরি হয়ে পাইপে ফাটল ধরায়। শেষ পর্যন্ত অপারেটররা জরুরি শীতলীকরণ ব্যবস্থা সক্রিয় করে রি-অ্যাক্টরটি নিরাপদে বন্ধ করেন এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি।
রূপপুরে ত্রুটিপূর্ণ ভাল্বটি রিপেয়ার করার পরও দেখা গেছে কাজ করছে না। তাপমাত্রা প্রায় ২৮০-৩০০ ডিগ্রি উঠে যাওয়ার পর প্রেসার ১৮ এর উপরে গেলে অটোমেটিক ভাল্বটা খুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভাল্বটা খুলছে না। এই টেস্টটা বারবার করেও প্রকৌশলীরা সফল হতে পারছেন না। যন্ত্রাংশের পরীক্ষা থেকে এ ধরনের জটিলতায় উৎপাদন বিলম্ব হচ্ছে; কিন্তু এটি মূলত দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অংশ।
বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়
একনেক সভায় ইতোমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি থেকে ২৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দু’টি ইউনিট থেকে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট খরচ এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা থেকে নতুন সংশোধিত খরচ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। (প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি)। প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ ডলারের দাম বৃদ্ধি ছাড়াও রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণের বিনিময় হারের পার্থক্য সমন্বয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামো ও সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যয় যৌক্তিককরণে অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পের বেশির ভাগ অর্থায়ন (প্রায় ৯০ শতাংশ) করেছে রাশিয়া ঋণ হিসেবে। নিজস্ব অর্থায়ন বা সরকারি অনুদান সামান্য কমিয়ে পুরো অতিরিক্ত ব্যয় প্রকল্প ঋণ থেকে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন সময়মতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ব্যয় বাড়তেই থাকবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








