
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারে নতুন ও ভালোমানের কোম্পানি বাড়াতে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি কোম্পানিকে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার এবং ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমও বক্তব্য দেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, নানা জটিলতায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো আইপিও বাজারে আসেনি এবং নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিও হয়নি। এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনার পথ সহজ করতে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তা ছাড়া আইপিও বিধিমালাও কিছুটা সহজ করে সংশোধন করা হচ্ছে, যা শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। নতুন দু’টি বিধিমালা কার্যকর হলে সরকারি, বহুজাতিক এবং দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানির সরাসরি শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। ডিএসইর লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আগামী মার্চের মধ্যে তার্লিকাভুক্তির জন্য আবেদন জমা দিলে লিস্টিং ফি ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, নতুন কমিশন আসার পর ডিএসইর ক্ষমতার পরিধি অনেকটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন তালিকাভুক্তি ও ট্রেডিং সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত ডিএসইর হাতে দেয়া হয়েছে। অতএব, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানা দিক থেকে কাজ হচ্ছে। দেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্র ও বিভাগ নিয়ে কাজ করছে ডিএসই। চলতি বছরের মধ্যে স্ক্রিপ নিটিং সিস্টেমস ও ট্রেডিং সময়টি ১ এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি। তা ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে ডিএসইতে ডেরিভেটিভস মার্কেট চালু করার কথা উল্লেখ করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।
একটি সার্বভৌম বন্ড বাজারে আনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার বিষয়ক উপদেষ্টা এটা নিয়ে কাজ করছেন। বিদেশী ইনভেস্টমেট ফান্ডগুলোর সাথে এ নিয়ে কথা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া আরো সহজ হতে পারে। একই সাথে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লে বাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এর ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে। নতুন সিকিউরিটিজ বাজারে আনা এবং বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে শেয়ারবাজারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনার আলোকে ডিএসই বাজার ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতাবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা প্লাটফরম করার কাজও এগিয়ে চলছে। নভেম্বরের মধ্যে এটি কার্যকরার চেষ্টা রয়েছে। তা ছাড়া বন্ড মার্কেট উন্নয়নের ব্যাপারে করপোরেট সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। এমনকি করপোরেট বন্ড বাজারে আনার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির ফি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক আজ এক লাখ পয়েন্ট ছুঁয়েছে কিন্তু আমাদের সূচক ছয় হাজার পয়েন্ট পার হতে পারছে না। বাজারের এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের বিকল্প নেই।
পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগকারীদের সেবা আরো সহজ করতে নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। মঙ্গলবার নতুন ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নতুন ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এতে বেশ কিছু নতুন ক্যাটাগরি ও ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য এক জায়গা থেকেই পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বাজারসংক্রান্ত তথ্য খোঁজা ও ডিএসইর বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের প্রক্রিয়াও আরো সহজ হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ওয়েবসাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের নতুন প্ল্যাটফর্মের সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতে পুরনো ওয়েবসাইটও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এরপর সেটি বন্ধ করে শুধু নতুন ওয়েবসাইটের কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ গতকাল নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেছে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ওয়েবসাইটকে আন্তর্জাতিক মানে উপনীত করার জন্য এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।








