মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ের রেকড, এক বছরে বৃদ্ধি ৪০৮ কোটি টাকা
সাংবাদিকদের সাথে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মতবিনিময় করেন : নয়া দিগন্ত।

সেকান্দার আলী মোংলা 

Advertisement

রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে তিন হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয়ের পাশাপাশি আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
মঙ্গলবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে বাগেরহাট ও মোংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজস্ব আয় নয়, জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে।
এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে এক কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২৫ হাজার টিইইউজ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে আট হাজার ২৫৮ টিইইউজ বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এক হাজার ৫০০টি। কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এক কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা এক লাখ টিইইউজ এবং গাড়ি হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২০ হাজার ইউনিট।
সক্ষমতা আরো বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহায়ক জলযান সংগ্রহ, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ। সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দু’টি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।