
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে একটি ‘মারাত্মক মানবিক সঙ্কট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান করে না। এটি কেবল সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করে এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তোলে। একমাত্র আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সবাইকে একত্রিত হয়ে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি।
নিউ ইয়র্কে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক শুরুর আগে ইউএন নিউজের সাথে আলাপকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। খলিলুর রহমান বলেন, এটি একটি মারাত্মক মানবিক সঙ্কট, যেখানে একটি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের বাড়িঘরে বোমা ফেলা হয়েছে, গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশের মানুষের দ্বারাই বিতাড়িত হয়েছে। এমনকি গর্ভবতী মায়েদের পেট চিরে ভ্রুণ বের করে আগুনে ছুড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
ইউএনজিএর সভাপতি বলেন, আমি সাধারণ পরিষদের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করি। এটি এমন একটি স্থান যেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা একটি নিরাপদ পরিবেশে একত্রিত হয়ে ভবিষ্যতের সর্বোত্তম কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য কাজ করেন। আমি রোহিঙ্গাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য শক্তি, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং ঘরে ফেরার তীব্র আকাক্সক্ষা দেখেছি। গত বছর জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফরের সময় কক্সবাজার গিয়েছিলেন। তখন রমজানের এক সন্ধ্যায় তার সাথে ইফতারে অংশ নিতে এক লাখেরও বেশি শরণার্থী সমবেত হয়েছিলেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল একটি করে প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ছিল : ‘আমরা বাড়ি ফিরতে চাই’।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির দ্বারা নির্যাতিত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচর দ্বীপে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সঙ্কটের দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নতুন করে আকর্ষণ করবেন এবং এর সমাধানের লক্ষ্যে আরো জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আদায়ের চেষ্টা করবেন।
ইউএনজিএ অধিবেশন চলাকালে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি পার্শ্ব-আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করবেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








