২০ হাজার টাকার চুক্তিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা
কমলাপুর স্টেশনে রোববার রাতে ট্রেনে আগুন নির্বাপণ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা : নয়া দিগন্ত।

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করতে মাত্র ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতের এই ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ বিস্ফোরণে সরাসরি জড়িত দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেফতারকৃতদের একজন  রেলওয়ের কর্মচারী ও ছাত্রলীগের সাবেক স্থানীয় নেতা এবং অন্যজন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। 
গতকাল সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, ঢাকায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় দেখানোর পরিকল্পনা হিসেবে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে সম্মত হয়েছিলেন। 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিষিদ্ধ ও কার্যক্রম স্থগিত হওয়া বিভিন্ন সংগঠন কৌশল বদলে এখন সরাসরি নিজেরা না নেমে ভাড়াটে লোক দিয়ে এসব হামলা পরিচালনা করছে। এই ধরনের চক্রে দায়িত্ব ভাগ করা থাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে- একটি দল অর্থায়ন ও দূর থেকে সমন্বয় করে, অন্যজন পকেটে ককটেল বহন করে নির্দিষ্ট স্থানে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং আরেকজন গোপনে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর ব্যবস্থা করে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে হঠাৎ পরপর দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুষ্কৃতরা সটে কেটে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় প্ল্যাটফর্মে থাকা সাধারণ যাত্রী ও রেল কর্মচারীদের মধ্যে চরম ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ দ্রুততম সময়ে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার মো: সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্য দিকে মো: সাইমুন (২৩) শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।
ককটেল বিস্ফোরণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি এরা পুলিশের কাছে এই চুক্তির পেছনে থাকা মূল অর্থদাতা ও সমন্বয়কারীদের বিষয়ে বেশ কিছু নাম ও তথ্য প্রকাশ করেছে। পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে শাহজাহানপুর থানা পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
এ দিকে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত মো: সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগ।
গোয়েন্দা রমনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল সদৃশ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারটি ককটেল সদৃশ অবিস্ফোরিত বস্তু উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সালমান ইসলাম সাকিব নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্য দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচে গলির মাথায় পুরনো প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে এর ভেতর থেকে ১০টি ককটেল উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হলে ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ককটেলগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগ মাঠে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।