
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। রোববার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আবিদা সুলতানা মলির আদালতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল জবানবন্দী দেন। আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দীতে তারা অপ্রতিমকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আইফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রতিমের সাথে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন তারা।
জবানবন্দী শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ দিকে হত্যাকাণ্ডের তথ্য জানার পরও গোপন রাখার অভিযোগে সিয়াম (১৯) নামের আরো একজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমকে হত্যার পর প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন সিয়ামের সাথে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান। এরপরও সিয়াম পুলিশকে না জানানোয় তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
৪ আসামি কারাগারে, দুই কিশোর যাবে সংশোধনাগারে : অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগারে) পাঠানো হবে।
রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই মো: সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই কিশোর আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে (১৬) সংশোধনাগারে পাঠানো হবে। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কারাগারে থাকবে।
রোববার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শাহ আলম খান বলেন, পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে রাতে কারাগারে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








