
নিজস্ব প্রতিবেদক
সারের বিক্রয় কমিশন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের মধ্যেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে নতুন সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। বর্তমান কমিশন কাঠামোয় বস্তাপ্রতি লোকসান হচ্ছে দাবি করে বিএফএ বলছে, নতুন ডিলার নিয়োগের আগে বিদ্যমান কমিশন কাঠামো ও সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। সংগঠনটি বস্তাপ্রতি সার বিক্রয় কমিশন ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করারও দাবি জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএফএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেন।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার প্রার্থীদের আবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ডিলার নিয়োগকার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বিএফএ। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সারের বিক্রয় কমিশন বাড়েনি। অথচ এ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য বেড়েছে কয়েক দফা। ফলে ডিলারদের ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১৮ বছর ধরে বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা ছিল। ওই কাঠামোয় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন পেতেন। কিন্তু বর্তমানে একই ব্যবস্থায় বস্তাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিলারদের কমিশন ‘না লাভ, না ক্ষতি’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। ডিলারদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এর সাথে আরো ১০০ টাকা যোগ করে বস্তাপ্রতি মোট ২০০ টাকা কমিশন নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
বিএফএ চেয়ারম্যান বলেন, সারের বস্তাপ্রতি কমিশন না বাড়ালে ডিলারদের সৎভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। কমিশন না বাড়ালে ধীরে ধীরে ডিলাররা এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ডিলার হিসেবে ব্যবসা করে আসা ব্যক্তিদের ব্যবসায় টিকে থাকার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নতুন ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিএফএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
বিএফএর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের রুল জারি করেছেন। কিন্তু আদালতের রুল জারির পরও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, আদালতের রুল থাকা অবস্থায় এভাবে নিয়োগকার্যক্রম চালানো আইনের ব্যত্যয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হলেও নীতিমালার বিতর্কিত ধারাগুলো স্পষ্ট করার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো বিএফএর সাথে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি। ফলে একদিকে পুরনো ডিলাররা কমিশন কাঠামো নিয়ে লোকসানের কথা বলছেন, অন্যদিকে নতুন ডিলার নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ও নীতিগত জটিলতা।
নতুন ডিলার নিয়োগের আগে বিদ্যমান ডিলারদের ব্যবসায়িক সঙ্কট এবং নীতিমালা নিয়ে বিরোধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফএর পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার বিতর্কিত ধারাগুলো স্পষ্ট করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএফএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: মামুনুর রশীদ খান, ডিরেক্টর মোবারক হোসেন বাচ্চুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








