
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরো দক্ষ, নমনীয় ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোর (ওবিইউ) জন্য নতুন সুযোগ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে ওবিইউগুলোকে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং আন্তঃমুদ্রা লেনদেন চুক্তির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনাসৃষ্টি হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওবিইউগুলো নিজ নিজ দেশের ব্যাংকিং ইউনিট, অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার ও ওবিইউ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। একই সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনও পরিচালনা করতে পারবে। এই সুবিধার ফলে ওবিইউগুলো বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরো বেশি নমনীয়তা পাবে। বাজার ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে তারা নিজেদের তহবিল কাঠামো আরো কার্যকরভাবে সাজাতে পারবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও আরো সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সাথে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যও রয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, ওবিইউগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন অবশ্যই অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, তহবিলের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে। ফলে নতুন সুবিধাটি বাস্তব ও অনুমোদিত ব্যাংকিং প্রয়োজনের সাথে যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বৈদেশিক মুদ্রায় বাণিজ্য অর্থায়নের ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা। ওবিইউগুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে আমদানি, রফতানি ও অন্যান্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে অর্থায়ন দেয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় অথবা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় ওবিইউগুলোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।
এ সার্কুলারের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বিচক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক কম ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ এবং উপযুক্ত মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতি, তহবিলের ব্যয় এবং সম্পদ-দায়ের ভারসাম্য আরো পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারবে। একই সাথে অনুমোদিত লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সময়মতো সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি করার সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের মাধ্যমে ওবিইউগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি কার্যক্রমে সমন্বয়ও উন্নত হতে পারে। সরাসরি লেনদেনের সুযোগ থাকায় প্রয়োজনীয় মুদ্রা সংগ্রহ, তহবিল স্থানান্তর এবং ঝুঁকি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। এতে গ্রাহকদের জন্য সেবা এবং ব্যাংকগুলোর জন্য কার্যকর তহবিল ব্যবস্থাপনার পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পদক্ষেপটি দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার পরিসর বাড়িয়েছে। সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের সুযোগের ফলে ওবিইউগুলো তারল্য, তহবিল ব্যয়, সম্পদ-দায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে। একই সাথে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বৈদেশিক মুদ্রায় তুলনামূলক দক্ষ ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে নতুন নীতিটি বাংলাদেশের অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরো নমনীয়, কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক ট্রেজারি চর্চার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।







