
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলেও সরকারের সাথে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেয়া কিংবা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করে নির্বাচন করবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সাথে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেয়া কিংবা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যই সরকারের কাছে থাকা তথ্য।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না, ইউ ক্যান নট সে দ্যাট। সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সরকারের বিভিন্ন বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সূচি আগানো বা পেছানো হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগে কখনো বলেননি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একক বা একচ্ছত্র এখতিয়ার।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইন ভঙ্গ করেছে- এভাবেও বলতে চাই না। আমার মনে হয়, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।’
ইসি ও সরকারের সংঘাত নেই
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করেই নির্বাচন করবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে।
জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাতের মতো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এরকম কিছু তিনি মনে করেন না।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন।
জাহেদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে। এবার সে ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘আগামী যে লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশন আছে, তাতে কোনো দল নির্বাচন করছে না। ওখানে নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা।’
তবে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার সরাসরি পরিচালনা করবে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাও করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কখনো এমন আইন করি যে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার পরিচালনা করবে নিজে সরাসরি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না, ধরুন, এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট।’
সূত্র : ইউএনবি







