সড়ক, ভোগান্তি, সংস্কার, এলজিইডি, ইউপি সদস্য
সংস্কারের অভাবে সড়ক মাটির সাথে মিশে গেছে। নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউরা-জয়খালী সড়কটি একসময় পাকা ছিল। তবে সংস্কারের অভাবে এখন তা বোঝার কোনো উপায় নেই। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি কার্যত কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তায় এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলা সদরের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

Advertisement

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশের কোথাও পাকা সড়কের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। দক্ষিণ আউরা ব্রিজ পার হয়ে কিছুটা সামনে গেলেই চোখে পড়ে বড় বড় গর্ত। কোথাও সড়কের দুপাশ ভেঙে গেছে, আবার কোথাও পিচ ও ইট উঠে গিয়ে সড়ক মাটির সাথে মিশে গেছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ আউরা গ্রামের নান্টু জমাদ্দারের বাড়ি থেকে পঞ্চায়েত বাড়ি হয়ে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সড়কের এই তিন কিলোমিটারের বেশিরভাগ কালভার্টই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। এর মধ্যে মরহুম এনায়েত হোসেন খসরু পঞ্চায়েতের বাড়ির উত্তর পাশের এবং আবুল কালাম হাওলাদারের বাড়ির পূর্ব পাশের দুটি কালভার্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, উপজেলা সদর ও জেলায় যাতায়াতের জন্য তাদের এ সড়ক ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ১৮-২০ বছর ধরে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পণ্য পরিবহনে গাড়ি চলতে না পারায় কাঁধে বা হাতে করে মালামাল বহন করতে হয়।

ভাঙা রাস্তার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা। 

দক্ষিণ আউরা গ্রামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কবির হোসেন বলেন, ‘রাস্তার যে অবস্থা, অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া যায় না। বাইপাস বা বটতলা বাজারে গাড়ি রেখে চার্জ দিতে হয়।’

জয়খালী গ্রামের ইউপি সদস্য মো: জায়েদুল আলম খান জানান, সড়ক দিয়ে চলাচলের উপায় না থাকায় অনেক সময় পেছনের পথ দিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে ও সময়মতো সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: নুরুজ্জামান সিকদার জানান, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি পাকা করেছিল। এরপর দীর্ঘ দুই যুগেও আর কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটির এই বেহাল দশা হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: গোলাম মোস্তফা জানান, সড়কটির ৪০০ মিটার অংশের দরপত্র ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশ প্রশস্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন শেষে দরপত্র আহ্বান করা হলে দ্রুতই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।