মহাসড়ক কেটে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন থামছে না
দোহারে আঞ্চলিক মহাসড়ক কেটে ড্রেজার পাইপ বসানো হয়েছে : নয়া দিগন্ত।

দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা
ঢাকার দোহার উপজেলায় আঞ্চলিক মহাসড়ক কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ড্রেজারের পাইপ বসানোর মহোৎসব চলছে। এতে কেরানীগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মতাসীন কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মহাসড়ক তিগ্রস্ত করে অবৈধ বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বহু গুণ বেড়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ সড়কপাড়, পালামগঞ্জ ফুলতলা, লটাখোলা চাঁদতারা কাব সংলগ্ন এলাকা, নূরপুর ও সুতারপাড়া এলাকায় মহাসড়ক বোরিং করে ১০ ইঞ্চির প্লাস্টিকের পাইপ ঢোকানো হয়েছে।
ইছামতী, কালীগঙ্গা ও পদ্মা নদী থেকে বলগেটের মাধ্যমে বালু এনে প্রথমে নদীর তীরে নামানো হয়। এরপর সেই বালু মহাসড়কের নিচের সুড়ঙ্গ দিয়ে টানা পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার শাখা রাস্তার ওপর দিয়েই ফেলে রাখা হয়েছে পাইপ। এর ফলে এক দিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্য দিকে যেকোনো মুহূর্তে সড়ক ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও বন্ধ হচ্ছে না পাইপ বসানোর এই প্রতিযোগিতা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের এক নেতার ড্রেজার পাইপ গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর মাহমুদপুর এলাকায় রাস্তা নষ্ট করে ড্রেজার পাইপ বসানোর দায়ে আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে সাজা ও অভিযানের পরও থামানো যাচ্ছে না এ চক্রকে।
এ বিষয়ে দোহার ইউএনও মো: মাঈদুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া মহাসড়ক কেটে বা সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ বসানোর কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত থাকবে।