সুনামগঞ্জে ৩ সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশু সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক পিতা। অন্য দিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সাতজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুলনায় চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত মো: আজমল হোসেন (২২) নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ওই সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে চুরির অভিযোগে মারধর করে তার চুল কেটে দেয়া হয়। পরবর্তীতে খুবির অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত আজমুলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় তারা কর্তৃপক্ষকে জানান, আজমল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে  উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। সে রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেয়ার কথাও স্বীকার করেছিল। তিনি বলেন, প্রথমে লাউড স্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সাথে কথা বলতে বলা হয়। তখন সে তার বাবাকে জানায় যে, সে সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন সে এ সবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, ‘আপনার ছেলে এ কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না।’ এরপর ফোনটি অন্য এক-দুইজনের হাতেও চলে যায়। চারদিকে তখন অনেক লোকজন, আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা থাকায় পরে কে ফোনে কথা বলেছে, তা তিনি খেয়াল করেননি।
ওই মেসের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরুতে সেখানে ১০-১২ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিল। পরে আরো অনেক লোকজন চলে আসে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয় এবং তার চুল কেটে দেয়া হয়। পরে আরো লোকজন চলে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং টুকটাক বাড়াবাড়িও হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। 
ছাদে থাকাবস্থায় তার বাবার সাথে ফোনে কথা বলেন ওই মেসের শিক্ষার্থীরা। কথা বলার পর আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখন সে হঠাৎ ছাদের যে কর্নার বা কার্নিশের দিকে সে যায়, সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জায়গাটি কিছুটা পিচ্ছিল ছিল। সে সেখানে গিয়ে সরাসরি লাফ দেয়। তাদের তাকে ধরার কোনো সুযোগ ছিল না।
এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের পিতার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়।
নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন দাবি করেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসাবে। আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো।  এরপরে আমি ফোনের পর ফোন দেই কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে  ট্রেনে করে খুলনায় এসে সকালে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বললো চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হসপিটালে আছে। 
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,  তারপরে দেখলাম ওরা অতিরিক্ত মারধর করে মেরে ফেলছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, আমি চাচ্ছি না কোটকাচারি করবো, বিচার করবেন তিনি। আমার কোনো অভিযোগ নাই, আমি চাচ্ছি না আমার ছেলেরে কাটাকুটি করুক।
টাকা-পয়সা দাবি করার বিষয় অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে থাকা এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথা শুনেননি। তিনি জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরিকল্পনা ছিল ছাত্রটিকে সেখান থেকে নিয়ে পুলিশে দিয়ে দেয়া। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ১৫-২০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। ছাত্রটি লাফ দেয়ার পর সবাই হতবিহ্বল হয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের কোনো মানুষ, সে যত খারাপই হোক, কাউকে ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলার মতো মানসিকতা রাখবে এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি ফেসবুকে এ ধরনের আলোচনা দেখতে পেয়ে বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে আজমলকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। এ সময় সাথে থাকা যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।  
হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পারিবারিক কলহের জেড় ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশু সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সরফত আলী (৩৮) নামে এক পিতার বিরুদ্ধে। একেই সাথে পিতা নিজেও বিষ পান করে মৃত্যু শয্যায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা রজনী লাইন গ্রামে ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশুরা হলো- মাওয়া আক্তার (১০), তামিম মিয়া (৭), শামীম মিয়া (২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন পূর্বে সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম শিশু সন্তানদের রেখে সৌদি আরব চলে যায়। শুক্রবার দুপুরে স্ত্রীর সাথে কোনো একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে সরফত আলী ছোট ছেলেকে পানিতে ফেলে দিলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। পরে রাত দেড়টার দিকে সরফত আলী নিজে বিষ খেয়ে তার তিন ছেলে মেয়েকেও বিষ খাওয়ায়। পরে পরিবারের লোকজন প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা: হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। পিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পৃথক দু’টি স্থান থেকে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেরানীগঞ্জের দুই এলাকা থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনের কোমরে সিমেন্টের বস্তার ভেতর ইট ভরে বাঁধা ছিল। অপরজনের লাশ ছিল অর্ধগলিত ও বস্ত্রহীন অবস্থায়।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের খাগাইল ব্যাপারী ঘাট এলাকায় কচুরিপানার সাথে ভাসমান অবস্থায় আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বরিশুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অন্য দিকে, দুপুরের দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কোন্ডা ইউনিয়নের দোলেশ্বর সারেংয়ের ডক ইয়ার্ডসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখান থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে হাসনাবাদ নৌপুলিশ ফাঁড়ি। লাশের কোমরে সিমেন্টের বস্তার ভেতর ইট ভরে বাঁধা ছিল। তার পরনে ছিল জিন্সের হাফ প্যান্ট ও কালো রঙের ফুলহাতা শার্ট। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হাসনাবাদ নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল্লাহ আল রুম্মান ও বরিশুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর দিপু কুমার বড়ুয়া জানান, লাশ দু’টি কয়েক দিন আগের হওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব পৌর এলাকায় নিখোঁজের চারদিন পর ধনাগোদা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি ফসলি জমিতে পানিতে ভেসে থাকাবস্থায় রিকাবি বেগম (১০৫) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। 
শনিবার পৌর শহরের উত্তর বাইশপুর এলাকার ধনাগোদা নদীর পূর্ব পাশে ফসলি জমিতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন লাশটি পানিতে ভাসতে দেখে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে।
ঘটনার দিন সকালে প্রবাসী মামুনের স্ত্রী বাড়ির ময়লা পানি ফেলতে গেলে ফসলি জমিতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে আসে এবং স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধার লাশটি উদ্ধার করে। প্রথম দিকে মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা না গেলেও পরবর্তীতে স্বজনদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত রিকাবি বেগম মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি এলাকার সওদাগর বাড়ির মৃত আমির আলী সওদাগরের স্ত্রী। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা চারদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিহতের ছেলে মো: বাচ্চু মিয়া সওদাগর জানান, তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং চোখেও কম দেখতেন। চারদিন ধরে আমরা মাকে খুঁজছিলাম। আমার মায়ের জন্য পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। 
বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পুকুর থেকে আনসার ভিডিপির সদস্য শাহজাহান আলী (৫৩) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোয়ালিপাড়া এলাকায় আব্দুল খালেকের পুকুরে এই ঘটনা ঘটে। শাহজাহান চককোয়ালিপাড়া গ্রামের মৃত নাদের আলী ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কোয়ালিপাড়া গ্রামেরই আরেকটি পুকুরপাড়ে কয়েকজন মিলে মুড়ি মাখিয়ে খায় তারা। তারপর সেখান থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে সে চলে আসে। পরে শুক্রবার সকালে পুকুর মালিক খালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পুকুরে এসে দেখে পাড়ের একটি গাছের সাথে শার্ট এবং নিচে সেন্ডেল পড়ে আছে। তখন শাহজাহানের বাড়িতে খবর দেয়া হলে পরিবারের সদস্যরা এসে খোঁজাখুঁজি করে পুকুরের পানি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকে পুকুরের পানিতে গ্যাস করার ফলে মাছ মরে ভেসে উঠছিল। সে রাতে বাড়ি যাওয়ার সময় ওই মরা মাছ তুলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে সে মারা গিয়ে থাকতে পারে।
মৃত ব্যক্তির ছেলে আসিফ আলী বলেন, তার বাবা বেশিরভাগ সময় পাশের গ্রামেই থাকতো। গতকাল বিকেলেও বাড়ি থেকে বের হয়ে সেখানেই গিয়েছিল। শুক্রবার সকালে ফোন পেয়ে চাচাদের সাথে করে গিয়ে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাবার কোন শত্রু নেই, কারো সাথে লেনদেনও নাই। পুকুরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় মরা মাছ দেখে তুলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় গৃহহীন নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু 
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও নিউমার্কেট এলাকায় পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় এক রাজমিস্ত্রি, অটোরিকশা গ্যারেজের কেয়ারটেকার এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় গৃহহীন নারীসহ তিনজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। 
যাত্রাবাড়ীতে সাততলা থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কাজলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় সাততলা থেকে নিচে পড়ে আল-আমিন (২৫) নামের এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই শিহাব জানান, আল-আমিন দক্ষিণ কাজলায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় এবং ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেকে) ভর্তি করা হয়। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 
মুগদায় অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু : রাজধানীর মুগদার মানিকনগরের ‘আগুনের গলি’ এলাকায় শ্বশুরের অটোরিকশার গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আব্দুল্লাহ (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতের শ্বশুর ও গ্যারেজ মালিক আব্দুল গাফফার জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশায় চার্জ দেয়ার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 
নিউমার্কেটে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার গৃহহীন নারীর মৃত্যু : নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারে সিঁড়ির ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয়ের এক নারীর ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়া এই নারীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াা হয়। নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর সাহা জানান, নিহত নারী ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং ওই এলাকাতেই থাকতেন; তবে তার নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান তিনজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে জানান, তিনটি ঘটনার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।