অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকঋণ বন্ধের সুপারিশ

 সংসদ প্রতিবেদক

পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ইটভাটার অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে সারা দেশে বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার  পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোয় ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির প্রথম বৈঠকে পরিবেশের ক্ষতি হয়- এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার ব্যাপারেও মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো: জি কে গউছ এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। 
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো: জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো: আব্দুল মান্নান ও সুলতানা জেসমিন অংশ নেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সাথে মন্ত্রণালয় এবং কমিটি-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে সার্বিক আলোচনা হয়। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে- এমন কোনো সিদ্ধান্ত যেন মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
অবৈধ ইটভাটাকে পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস বিবেচনায় নিয়ে এসব ভাটায় অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটি কর্তৃক অবৈধ ইটভাটা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থায়ন বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে কমিটির পক্ষ থেকে পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে দেশের কোথায় কতগুলো বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে পরিবেশ অধিদফতরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশের বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন করে তা কমিটির কাছে উপস্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে সরকারের নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। পরিবেশের ওপর ইটভাটার ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর পাশাপাশি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীন পরিচালিত প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন, বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
বৈঠকে বিগত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কিভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের অতীতের বরাদ্দ ও ব্যয়ের চিত্র কমিটির সামনে তুলে ধরার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট কিভাবে ব্যয় করা হবে, তার পরিকল্পনাও বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বন অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।