মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করার উদ্যোগ হাইকমিশনের

 মালদ্বীপ প্রতিনিধি

মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্য দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দেশটিতে অবস্থানরত স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই), শ্রীলঙ্কার ব্যাংক অফ সিলন (বিওসি) এবং পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকের (এইচবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।
এসব বৈঠকে মালদ্বীপের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা ও মার্কিন ডলারের সঙ্কট, ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য পরিস্থিতি, প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণ, মুদ্রা রূপান্তর,  অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মালদ্বীপের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে কার্যরত ব্যাংকগুলোর জন্য স্থানীয় মুদ্রা থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর এবং বহির্মুখী অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় রেমিট্যান্স পাঠানোর সমস্যা কেবল বাংলাদেশীদের সমস্যা নয়, বরং এটি মালদ্বীপের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আলোচনায় উঠে আসে যে, মালদ্বীপে কর্মরত ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান ও পাকিস্তানি প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী হিসেবে নিয়োজিত। তাদের অনেকে মার্কিন ডলারে বেতন বা পারিশ্রমিক পান অথবা বৈদেশিক মুদ্রায় তুলনামূলকভাবে বেশি প্রবেশাধিকার রাখেন। ফলে তাদের স্থানীয় মুদ্রা থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যাংকগুলোর ওপর বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের চাপ তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।
অন্য দিকে মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশ নিম্নদক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মসংস্থানে নিয়োজিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালদ্বীপের রুফিয়ায় বেতন পান। মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশীর সংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি হওয়ায় তাদের উপার্জিত রুফিয়াকে বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে এ কাঠামোগত পার্থক্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনার ড. মো: নাজমুল ইসলাম তিনটি ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনাকে অনুরোধ করেন, বিদ্যমান আইন, বিধিবিধান ও ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট পরিমাণের-যেমন ৫০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ-দেশে পাঠানোর কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে।