
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে 'কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেয়ার' অনুরোধ জানিয়েছে। দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দ্য জেরুসালেম পোস্ট।
একটি সূত্র জানিয়েছে, 'উচ্চপদস্থ সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ‘আরও কিছু সময়’ চেয়েছেন।'
রিয়াদ আশঙ্কাবোধ করছে যে ট্রাম্প যদি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন, তবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এবং ইরানি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এতে তাদের পানি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং তেল ও জ্বালানি খাতের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কয়েক দিন আগে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (যার মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা তেহরানে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসিন রেজায়ির সাথে বৈঠকে মিলিত হন।
এই প্রতিনিধিদলে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা না চালাতে ইরানের প্রতি সৌদির অনুরোধ
জেরুসালেম পোস্টের সাথে আলাপকালে এক আঞ্চলিক সূত্র জানান, বৈঠক চলাকালে সৌদি প্রতিনিধিরা ইরানের কাছে অনুরোধ জানান যেন সঙ্ঘাত নতুন করে শুরু হলেও তেহরান যেন সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে। তবে সূত্রটির মতে, ইরানি পক্ষ এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান বিরোধী ইসরাইলি-আমেরিকান যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন রোরিং লায়ন' এবং 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র সময় তেহরান সৌদি আরবের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে তেহরান তাদের আক্রমণ কমিয়ে আনে এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। মূলত রিয়াদ থেকে একটি বার্তা পাওয়ার পরই ইরান হামলা থামায়, যেখানে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে তেহরান 'রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করছে' এবং এই আক্রমণ অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবও ইরানে পাল্টা আঘাত হানতে বাধ্য হবে।
সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








