
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী রিয়াদসহ দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের হাউছিরা দাবি করেছে, তারা উভয় বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হাউছিরা এর আগে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবিও রয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করায় দুই পক্ষের সংঘাত আরো গভীর হচ্ছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আভা বিমানবন্দরে একজন মিসরীয় ও একজন আলজেরীয় নাগরিক এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে একজন সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরো ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা রিয়াদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মটি ধ্বংস করেছে।
এই জোট ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন করছে।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে জোটটি এই হামলার জন্য সরাসরি হাউছিদের দায়ী করে এবং জানায়, এর জবাব দেয়া হবে।
জোটের দাবি, তারা পাল্টা হামলায় হাউছিদের ৮২টি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করেছে।
এসবের মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হাউছিদের সমাবেশস্থল রয়েছে।
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হাউছিরা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জুলাইয়ে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর তারা উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে।
জাতিসঙ্ঘ বুধবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইয়েমেনের ভেতরে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ সপ্তাহে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, লোহিত সাগরের কৌশলগত কিছু এলাকা ও বন্দরনগরী মোচা থেকে হাউছিদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তবে হাউছিরা বলছে, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ধরে রেখেছে।
তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হাউছিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
তার দাবি, হামলাটি লক্ষ্যভেদ করেছে ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
হাউছিরা ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের কাছে একটি সামরিক সরবরাহ বহর লক্ষ্যবস্তু করারও দাবি করেছে।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, এডেন বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সাবা জানায়, নির্ধারিত একটি কায়রো-এডেন ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র রানওয়ের কাছে আঘাত হানে। ফলে ফ্লাইটটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ঘুরিয়ে নিতে হয়।
হাউছিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
এই সপ্তাহে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হাউছিদের হামলার দাবি দ্বিতীয়বারের মতো এসেছে।
সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে হাউছিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে তারা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সর্বশেষ পাল্টা অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। চার বছরের যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আবারো তীব্র হয়ে ওঠে।
গত মাসে হাউছিরা লোহিত সাগর বরাবর ইয়েমেনের পুরো পশ্চিম উপকূল দখল করেছে বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৭ জন হাউছি যোদ্ধা।
সাবা জানিয়েছে, হাউছিরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত তাইজ শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
তাইজের বাসিন্দা আল-ফাতেহ আল-ঈসাই বলেন, আহতদের দেখতে তারা রাস্তায় বেরিয়ে তরুণ বেসামরিক লোকজনকে আহত অবস্থায় দেখতে পান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাউছিদের নিক্ষেপ করা গোলাটি বেসামরিক লোকজনের ভিড় থাকা একটি রাস্তায় আঘাত করে।
ইয়েমেনের সরকার হাউছিদের নিয়ন্ত্রিত সব এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় দেশটির বেশিভাগ জনসংখ্যা বসবাস করে এবং অনেক অঞ্চল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাউছিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানবিক সঙ্কটে ইয়েমেনের বেশিভাগ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
মোচা থেকে এডেনে পালিয়ে যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী দাতব্যকর্মী মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, ‘সেখানকার মানুষ আতঙ্কিত।’
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








