
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। দাবি সত্যি হলে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা হবে এটি পঞ্চম।
প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইউরেশিয়ান টাইমস জানিয়েছে, হাউছিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিমানটি সেখানে সৌদি সামরিক সমাবেশকে সহায়তা করতে শত্রুতামূলক অভিযান চালাচ্ছিল।’
সারি আরো দাবি করেন, সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৪৫০টি হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিমানটি ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে পবিত্র নগরী মক্কাকে হাউছিরা লক্ষ্যবস্তু করেছে—সৌদি আরবের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সারি বলেন, ‘আমাদের অভিযানগুলোর লক্ষ্য তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি। এসব পবিত্র স্থান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের চার এফ-১৫ হারানোর দাবি
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র চারটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল হারিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি যুদ্ধবিমান নিজেদের বাহিনীর গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়। চতুর্থটি ভূপাতিত করে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পাইলট ও সহকারী পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা দুই সদস্য নিহত হন।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ধাহরানের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান
এফ-১৫এসএ হলো ম্যাকডনেল ডগলাসের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই আসনবিশিষ্ট সংস্করণ। এটি সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান বহরের মূল ভিত্তি। এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল থেকে তৈরি এই সংস্করণকে সবচেয়ে আধুনিক এফ-১৫ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে সিঙ্গাপুরের এফ-১৫এসজি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫কে স্ল্যাম ঈগলের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৫ সালে এটি ছিল সৌদি আরবের দ্বিতীয় এফ-১৫ দুর্ঘটনা। ওই বছরের জুলাইয়ে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় একটি সৌদি এফ-১৫এসএ বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সব সদস্য নিহত হন। রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে খামিস মুশাইত এলাকায় কিং খালিদ বিমানঘাঁটির কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে নিয়মিত রাতের প্রশিক্ষণ মহড়ায় কারিগরি ত্রুটির কারণে কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় সৌদি রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫এস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা দুই কর্মকর্তা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।
সৌদি আরব ছাড়াও এ অঞ্চলে স্ট্রাইক ঈগল পরিচালনাকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলের বিমানবাহিনী এবং কাতারের আমিরি বিমানবাহিনী।







