
নিজের মতো করেই গল্পের শেষ টানলেন লিওনেল মেসি। গোল করে-করিয়ে, সেই চিরাচরিত রূপে। বিদায়ের মঞ্চেও রেখে গেলেন নিজের ছাপ, বাড়ালেন সমর্থকদের আক্ষেপ। চাইলে সাদা-নীল জার্সিতে নিশ্চয়ই আর কিছুদিন মাঠে থেকেই যেতে পারতেন!
কিন্তু কিংবদন্তিরা জানেন, কখন কোথায় থামতে হয়। দুনিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসিও তাই বিদায়ের সময়টা বেছে নিতে ভুল করেননি। বরং শেষটাও করেছেন নিজের মতো করেই—মাঠে নেমেছেন, দলকে জিতিয়েছেন, আর রেখে গেছেন এমন কিছু মুহূর্ত, যা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে থেকে যাবে বহুদিন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। আর বিদায়ের রাতটাকেও স্মরণীয় করে রাখলেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা—এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে এনে দিলেন ৩-০ গোলের জয়।
ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা যাচ্ছিল, রাতটি শুধুই আরেকটি প্রীতি ম্যাচ নয়। গ্যালারিতে হাজারো সমর্থক, সতীর্থদের আবেগ আর মেসিকে ঘিরে একের পর এক সম্মাননা—সব মিলিয়ে মনুমেন্টাল পরিণত হয়েছিল বিদায়ের মঞ্চে। মেসি মাঠে নামার পর সেই আবেগ আরো তীব্র হয়।
আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিতে শেষবারের মতো জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়ান তিনি। ম্যাচের দশম মিনিটেও বিশেষ সম্মান জানায় গ্যালারি। এরপর আবেগ সরিয়ে মাঠের কাজে মন দেন মেসি। তবে বিরতির আগে তেমন কিছুই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর বদলে যায় চিত্র। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন মেসি। ৪৮তম মিনিটে তার নেয়া কর্নার থেকে ভলিতে জাল খুঁজে নেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো ওতামেন্দিরও ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ। ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারও তাই বিদায়ের মঞ্চটা রাঙালেন দলকে এগিয়ে দিয়ে।
গোলের মিনিট দু’য়েক পরই ওতামেন্দিকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে আসে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর উচ্ছ্বাস। সতীর্থরাও হাত মিলিয়ে বিদায় জানান দীর্ঘদিনের সাথীকে।
এরপর আবারো মেসির ছোঁয়া। ৬৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে তার বাড়ানো বল পেয়ে নিকো পাজ ঘুরে দাঁড়িয়ে বাঁকানো শটে বল পাঠান বেনিনের গোলপোস্টের বাঁ কোণে। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।
দুইটি গোল করানোর পরও শেষ হয়নি মেসি-শো। এবার নিজেই গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে জালের ওপরের কোণে বল পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোলটি করেন মেসি।
বেনিনের বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেয়া কিকের গতির কাছে অসহায় ছিলেন গোলরক্ষক। ভুল দিকে ঝাঁপিয়ে গোল হজম করেন তিনি। গোলের পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। মাঠের মাঝখানে তাকে রেখেই চলে উদ্যাপন।
সতীর্থদেরও জানা—এই দৃশ্য আর কোনো দিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে না। এমন উদযাপনের আরো কিছু সুযোগ এসেছিল পরেও, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগেনি। তবে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও শেষ হয়নি বিদায়ের আবহ। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটে ওঠে মেসির প্রতিচ্ছবি। এরপর আকাশে ভেসে ওঠে দুইটি শব্দ—‘গ্রেসিয়াস লিও’, অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’।
গোল করে, গোল করিয়ে, জয় দিয়ে—অর্থাৎ আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ গল্পটাও নিজের মতো করেই লিখে গেলেন লিওনেল মেসি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








