বিজয় উল্লাস,আল আকসা অভিযান, তিন বছর পূর্তি, আইআরজিসি,  ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ঐতিহাসিক, অভিযান,মোড় পরিবর্তন,  ইসরাইলের ভাগ্য, নির্ধারণ,
ইসরাইলের ট্যংক দখল করে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। প্রেসটিভি

ফিলিস্তিনের আল-আকসা অভিযানের তিন বছর পূর্তিতে ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঐতিহাসিক অভিযান ছিল এমন এক মোড় পরিবর্তন, যা ইসরাইলের ভাগ্য চিরদিনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। একইসাথে ইসরাইল সামরিকভাবে অজেয়—এমন যে ধারণা ছিল, তাও চিরতরে ভেঙেচুরে গেছে।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানায়, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে আল-আকসা অভিযানকে ‘ভবিষ্যৎ নির্মাণকারী ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষায়, এই অভিযান বর্ণবাদী ও দখলদার ইসরাইলের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। একইসাথে গোটা অঞ্চলে প্রতিরোধ অক্ষ যে একটি বাস্তব শক্তি, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। ওই দিন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের যোদ্ধারা এবং বীর হামাস, নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের ইস্পাতকঠিন ইচ্ছাশক্তি ও আল্লাহর ওপর ভরসা করে, দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা কাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়।’

আইআরজিসি বলেছে, গত তিন বছরে প্রতিরোধ অক্ষের পক্ষে আঞ্চলিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে ইসরাইল ও তার প্রধান সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র ‘কাঠামোগত সঙ্কট ও একের পর এক পরাজয়ের ঘূর্ণাবর্তে’ ডুবে গেছে।

হামাস যোদ্ধাদের একটি দল

 

আইআরজিসি আরও বলেছে, আল-আকসা অভিযান ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ঘিরে থাকা ‘অজেয়’ কিংবদন্তী চিরতরে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। একইসাথে গোটা অঞ্চলের প্রতিরোধ ফ্রন্ট যে একটি বাস্তব শক্তি, তাও স্পষ্ট হয়েছে। গাজা থেকে লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়া হয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং দখলকৃত ভূখণ্ডের কেন্দ্র পর্যন্ত সবাই একসাথে ইসরাইল এবং তার মার্কিন ও আঞ্চলিক সমর্থকদের মোকাবিলা করছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

 সব ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল পরাজিত

আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিই প্রতিরোধের শক্তির প্রমাণ। ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘ভয়াবহ পরাজয়ের’ কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা বা কোনো ভুল হিসাবের জবাব হবে ‘আগ্রাসীর জন্য বেদনাদায়ক ও ধ্বংসাত্মক’।

বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর পরিচালনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের শাহাদাত এবং শত্রুর প্রবল চাপের পরও প্রতিরোধ অক্ষ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিবৃতির শেষ দিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের শহীদদের স্মরণ করা হয়। তাদের মধ্যে ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও মোহাম্মদ দেইফের নাম উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছেন, আল-কুদস মুক্ত না হওয়া এবং দখলদার ইসরাইল পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে।

আইআরজিসি আরো সতর্ক করে বলেছে, প্রতিরোধ অক্ষ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও প্রস্তুত। অঞ্চলের মুক্ত জনগণের পবিত্র ইচ্ছাশক্তির সামনে কোনো বাংকারই শত্রুদের রক্ষা করতে পারবে না।