হাইকোর্ট
হাইকোর্ট। সংগৃহীত

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেইসাথে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী বিভাগে নিয়োগ বা পদায়ন থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো: তৌফিক এনামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।

আইন সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।

এর আগে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।

রিটে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়, বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলো জুডিশিয়াল সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্প্রতি তিন বিচারককে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে যেসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সেগুলো ওই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল হাসানকে (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও আবেদনে জানানো হয়েছে।

নিয়োগ বা পদায়ন-সংক্রান্ত এসব স্মারক বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক কাঠামো, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর তফসিলে নির্ধারিত কাঠামো ও মাসদার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের ঘোষিত নীতিমালার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রিটে যুক্তি দেয়া হয়।

রিটটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পরে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রিটটি উপস্থাপন করা হয়। ইউএনবি