পাকিস্তান, কৌশলগত কমান্ড, প্রধান, ভারত, হুঁশিয়ারি , জবাব,
জেনারেল আমের রাজা। সংগৃহীত

প্রতিপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাবের জবাব দেয়া হবে তাদের কল্পনা ও হিসাবেরও বাইরে। এ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রসহ কৌশলগত সামরিক সক্ষমতার দায়িত্বে থাকা জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের প্রধান জেনারেল আমের রাজা। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক হুমকির পর শনিবার তিনি এ  হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পাশাপাশি,  ভারতকে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

Advertisement

পাকিস্তানের পুরোনো ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন শনিবার (১৭ অক্টোবর) জানায়, কাকুলের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ১৫৪তম লং কোর্সের ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বক্তব্য দেন জেনারেল আমের রাজা। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে যারা শত্রুতার নীলনকশা আঁটছে, তাদের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড়। পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতিতে যুদ্ধ বা সংঘাতের কোনো অবকাশ নেই। কেউ ভুল হিসাব করলে তার জবাব হবে এমন, যা হামলাকারীর কল্পনা বা হিসাবেরও বাইরে।

তিনি আরো বলেন, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি রক্ষায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সীমান্তের ওপার থেকে নতুন করে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে গতবারের চেয়েও বড় হামলা চালানো হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তানের কৌশলগত কমান্ডের প্রধান এ বক্তব্য দিলেন।

জেনারেল রাজা বলেন, বর্তমান ‘সত্য-পরবর্তী যুগে’ পরিকল্পিত অপতথ্য ও প্রচারণার মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ। ‘সত্য-পরবর্তী যুগ’ বলতে এমন সময়কে বোঝায়, যখন তথ্য-প্রমাণের চেয়ে আবেগ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস মানুষের মতামত গঠনে বেশি প্রভাব ফেলে।

জেনারেল রাজার দাবি, ‘অপারেশন সিন্দুর’ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ ছায়া সন্ত্রাসবাদ ও প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের কৌশল ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামাজিক ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টাও চলছে বলে জানান তিনি।

ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ সংঘাত সরাসরি জনগণের নিরাপত্তা ও পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

আঞ্চলিক শান্তিতে পাকিস্তানের ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি এবং বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব আবারো সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন জেনারেল রাজা। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ চুক্তি শান্তি ও কূটনীতির প্রতি দেশটির অঙ্গীকারের প্রমাণ। মক্কা চুক্তিও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একই ভাবনার ধারাবাহিকতা।


ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভয়াবহ দুর্ভোগ ও পরিকল্পিত নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি পাকিস্তানের কূটনৈতিক, নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অবিচল থাকবে। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

এর আগে শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের নিন্দা জানায়। মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, এসব বক্তব্য ভারতের আধিপত্যবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি বলেন, গত বছরের মে মাসে ভারতের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান নিজেদের সক্ষমতা ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে। পাকিস্তানের সংযম ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে দুর্বলতা ভাবা উচিত নয়। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব শক্তভাবে দেয়া হবে।

ভারতকে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যুদ্ধংদেহী অবস্থান ও বিপজ্জনক বক্তব্য পরিহার করে আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তির স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।