
ইন্ডিয়া টুডে
বর্ষার আগমন ঘটার সাথে সাথেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মশাবাহিত বিপজ্জনক রোগ ডেঙ্গুর তাণ্ডব। ঘরে ঘরে তীব্র জ্বর, রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার আতঙ্ক এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীর উপচে পড়া ভিড় যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় আকারের এক আশার আলো নিয়ে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে চলেছে ডেঙ্গুর বিশেষ প্রতিষেধক ‘কিউডেঙ্গা’। জাপানের প্রখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর উদ্ভাবিত এই প্রতিষেধকটি ভারতের বাজারে বাজারজাত ও বিপণনের উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ’।
‘কিউডেঙ্গা’ টিকার মূল বৈশিষ্ট্য
‘কিউডেঙ্গা’ মূলত চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম একটি চতুর্মুখী প্রতিষেধক। চার বছর থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো নাগরিকের জন্য এই টিকা ব্যবহারে ছাড়পত্র রয়েছে। ০.৫ মিলিলিটারের দু’টি ভিন্ন ডোজে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়, যেখানে প্রথম ডোজ গ্রহণের তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ করতে হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- এটি গ্রহণের আগে রোগী আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজনীয়তা নেই।
কার্যকারিতার হার
পরীক্ষামূলক প্রয়োগের চূড়ান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণের এক বছর পর পর্যন্ত নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে রেহাই দিতে এই টিকা ৮০.২ শতাংশ কার্যকর। এ ছাড়া সংক্রমণ পরবর্তী জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সার্বিক ঝুঁকি কমাতে এটি ৯০.৪ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা জোগায়, যা ১৮ মাসের নিবিড় পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাজার সম্ভাবনা
বিগত দুই দশকে প্রতিবেশী দেশটিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনে পৌঁছানোর বৃহৎ লক্ষ্যানুসারে কারখানা সম্প্রসারণ করছে। চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই টিকা ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করেছে। চূড়ান্ত বাজারজাতকরণের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও নীতিগত ধাপগুলো সম্পূর্ণ করে ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসের ভেতরেই সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে ‘কিউডেঙ্গা’। চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ উন্মুক্ত হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সুরক্ষার নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। তবে এটি বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, সুরক্ষামূলক পোশাক পরা এবং ব্যক্তিগত সচেতনতাই সংক্রমণ এড়ানোর একমাত্র কার্যকরী উপায় হিসেবে বহাল থাকছে।







