সৌদির কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিতর্ক

বিবিসি
সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন  নীতির এ পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের কিছু সদস্য। শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এ যুদ্ধবিমানটি কেনার জন্য সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এতদিন সৌদি আরবের এ চেষ্টায় বাধা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কারণ, তাদের মিত্র ইসরাইলের কাছেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হয়। আর মার্কিন আইন অনুযায়ী ইসরাইলকে গ্যারান্টি দেয়া আছে যে, আঞ্চলিক প্রতিবেশীরা যেসব আমেরিকান অস্ত্র পাওয়ার যোগ্য, ইসরাইল তার চেয়ে সর্বাধুনিক মানের অস্ত্র পাবে। রিয়াদের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এ অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই বা বাধা দেয়ার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে।
 উল্লেখ্য, সৌদি আরবই মার্কিন অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের ডেমোক্রেট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বৃহস্পতিবার এ অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর মাধ্যমে আমেরিকান সামরিক প্রযুক্তির রতœভাণ্ডার কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে। অন্যান্য ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা এবং কিছু মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেয়ার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেছেন, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যকার নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের সুবাদে রিয়াদ সংবেদনশীল এ প্রযুক্তি চীনের সাথে লেনদেন করতে পারে। যদিও বৃহস্পতিবার এ চুক্তি ঘোষণার সময় স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উদ্দেশ্যগুলোকে সমর্থন করবে। বিবৃতিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে যে, এ চুক্তিটি ন্যাটো-বহির্ভূত একটি প্রধান মিত্র দেশের নিরাপত্তা উন্নত করবে, যেটি উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি চালিকাশক্তি।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরো যোগ করেছে, সরঞ্জাম ও সহায়তার এ প্রস্তাবিত লেনদেন এর ফলে ওই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যিনি গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন।