ডাক্তার, চিকিৎসক
বাংলাদেশ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বুয়ামা) লোগো। সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার কমলাঘাট এলাকায় চিকিৎসা প্রদানকালীন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের ১৭তম ব্যাচের চিকিৎসক ডা: হোসনে আরা সুমিকে গত ১১ অক্টোবর এবং গত ১৩ অক্টোবর ফরিদপুর জেলার কানাইপুরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের ৯ম ব্যাচের চিকিৎসক ডা: জালাল উদ্দিনকে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বুয়ামা) সভাপতি ডা: তাওহিদ আলবেরুণী ও মহাসচিব ডা: মঈন উদ্দিন। নেতৃদ্বয় অনতিবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন। 

Advertisement

বুধবার নেতৃদ্বয় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান কাঠামোতে যেখানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ঠুনকো অজুহাতে একপেশে আইনের আশ্রয় নিয়ে রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট ডাক্তারদের গ্রেফতার ও কারাদণ্ড প্রদান অযৌক্তিক ও উদ্বেগজনক। 

বাংলাদেশে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৫ বছর একাডেমিক শিক্ষা এবং ১ বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BUMS ও BAMS ডিগ্রি অর্জন করেন। অতঃপর বাংলাদেশ সরকারের গঠিত অন্তবর্তীকালীন রেজিস্ট্রেশন কাউন্সিল কর্তৃক পেশাগত রেজিস্ট্রেশন সনদ প্রাপ্ত হন।

বিএমডিসি আইন ২০১০ এর ২২ ধারা মতে- বিএএমএস ও বিইউএমএস ডাক্তারদের হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ এ আইন শুধুমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস চিকিৎসকদের জন্য প্রযোজ্য। বিএএমএস ও বিউএমএস চিকিৎসকরা ভিন্ন আইন দ্বারা পরিচালিত হন। এ বিষয়ে হাইকোর্ট কর্তৃক ২০১০ এর ২২ ধারা বিএএমএস ও বিইউএমএস চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ রয়েছে (রিটপিটিশন নং -৭০৪৩/২০১২)। এই স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় বিএএমএস ও বিউএমএস চিকিৎসকদের হয়রানি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, আইন বহির্ভূত ও আদালত অবমাননার শামিল। 

উল্যেখ্য যে, এ জাতীয় অভিযান পরিচালনাকালীন সংশ্লিষ্ট জেলার একজন সরকারি ইউনানী/আ্য়ুর্বেদিক/হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক টিমের অন্তর্ভুক্ত থাকার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি (স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্মারক নং-৬৫৯৪ তাং-২০/১১/২০২৫)।

সরকারী মেডিক্যাল কলেজে থেকে ৫ বছরের গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত এবং বিএমডিসির ন্যায় স্বতন্ত্র মেডিক্যাল কাউন্সিল গঠন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন রেজিস্ট্রেশন কাউন্সিল থেকে প্রাপ্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকদেরকে ভুয়া ও প্রতারক বলে অভিহিত করা চরম মানহানিকর।
এমতাবস্থায়, ডা: হোসনে আরা সুমি ও ডা: জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রত্যাহারপূর্বক অনতিবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন নেতৃদ্বয়।