
আমি আমার নিজ ধর্মের মৌলিকত্বে খুবই বিশ্বাস করি। অন্য সব ধর্মকেই আমি সম্মান করি, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার নিজ ধর্ম ইসলামকে, আমার স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ সা:-কে। আমার এই ভালোলাগা, ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং তা বলার মধ্যে কোনো জড়তা নেই, নেই কোনো কুণ্ঠাবোধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, যিনি শুধু ‘কনকচাঁপা’ নামেই অধিক পরিচিত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া একটি পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আস সালামু আলাইকুম প্রিয় সুধীজন। আমি রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। আমি একজন বাংলাদেশী, বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক এবং একজন গর্বিত মুসলমান। আমার একটি সঙ্গীত জগত আছে, আছে কোটি কোটি প্রিয় ভক্ত, যারা আসলে আমার ভালোবাসার আয়না। আমি তাদের এতটাই ভালোবাসি ও সম্মান করি যতটা করি আমার নিজেকে।
তিনি বলেন, আমার বাবা জনাব আজিজুল হক মোর্শেদ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং সৌখিন সব্যসাচী মানুষ ছিলেন এবং মা জনাবা মোমেনা জাহান একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং সমাজ সেবক। তাদের জন্ম সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। তবে আমি ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বেড়ে উঠেছি। আমি সমাজসচেতন একজন মানুষ বটে। আমার স্বামী জনাব মইনুল ইসলাম খান একজন সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক। আমার বিদ্যাশিক্ষায় খুবই আগ্রহ। সারা পৃথিবীর অনেক বিষয়েই আমার প্রবল আগ্রহ। আমি এখনো একজন নিষ্ঠাবান ছাত্রের মতো পড়াশোনা করি।
কনকচাঁপা বলেন, আমি আমার নিজ ধর্মের মৌলিকত্বে খুবই বিশ্বাস করি। অন্য সব ধর্মকেই আমি সম্মান করি, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার নিজ ধর্ম ইসলামকে, আমার স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে, এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ সা:-কে। আমার এই ভালোলাগা, ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং তা বলার মধ্যে কোনো জড়তা নেই, নেই কোনো কুণ্ঠাবোধ। আমি ক্ষণে ক্ষণে আল্লাহকে মনে করতে ভালোবাসি, এমনকি মৃত্যুকেও। কারণ আল্লাহকে পেতে হলে আবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দরজা পার হতেই হবে। সে কারণে আমি মৃত্যুকে আকাঙ্ক্ষা করার স্পর্ধা তৈরি করছি খুব ধীরে ধীরে হলেও।
তিনি বলেন, আমি খুব শক্তভাবে কেয়ামত, রোজ হাসরের ময়দান, আল্লাহর বিচার এবং বিচার ভোগ করার পরে অনন্ত শান্তিতে বিশ্বাসী। আমার মনে বেহেশতের ছবিও আঁকা। এই পৃথিবী এবং পৃথিবীর সব প্রাণ যেমন ভালোবাসি তেমন বেহেশতের আনন্দিত জীবনও আমাকে অনেক আশান্বিত করে। এই ভাবনা নিয়ে আমার কখনো কোনো লজ্জাবোধ নেই।
যারা আমাদের নবীজিকে ব্যাঙ্গ করে, আমার বিশ্বাস নবীজি কে? তা তারা জানলে কখনো এই গর্হিত কাজ করতো না। আর এতে ইসলামের এবং নবীজির এবং আমাদের কিছু আসে যায় না। যারা ইসলামের আদব নিয়ে কটাক্ষ করে তাদেরও আমি গোনায় ধরি না।
জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী আরো বলেন, পড়ার বইয়ের বাইরে আমি অনেক বই পড়েছি এবং পড়ে যাই প্রতিনিয়ত, তবে আমাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন অনেকের মতোই আমার বিস্ময়। আমি আরবিতে কোরআন পড়ি, বাংলাতে আরো বেশি পড়ি এর অন্তর্নিহিত অর্থ জানতে। আমি পড়তেই থাকি পড়তেই থাকি। অনেকে বলে মানবতাই বড় ধর্ম। অবশ্যই মানুষের মানবিক গুণ থাকতেই হবে, কিন্তু আমি যদি ধার্মিক বা ধর্মভীরু হয়ে মানবতার জন্য কাজ করি, তাতে আমি কোনো অসুবিধা দেখি না। মানবসেবার অজুহাতে ধর্মীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলা আমার কাছে ফাঁকিবাজি মনে হয়।
তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুশাসন কখনো অন্যায় কিছু বলে না। সব ধর্মেরই মূল কথা শান্তি। ধর্ম শান্তির কথাই বলে। তবে স্পষ্টতই আমি শান্তির জন্য অন্য ধর্মের অনুশাসন, সাজসজ্জা, উৎসব এগুলো খুঁজি না। মানবতার জন্য কাজ করতে সুশীল হতে হবে আর সুশীল হলেই ধর্মকে অস্বীকার করতে হবে এই ভাবনা গুলো আমার মনে করুণামিশ্রিত হাস্যরসের উদ্রেক করে।
সবশেষ কনকচাপা বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমার পরিবারের চেয়ে অন্য পরিবার অনেক স্বচ্ছল অভিজাত হতে পারে, কিন্তু আমার পরিবারের, আমার অভিভাবকের বেঁধে দেয়া নিয়মই আমার শিরোধার্য। আমি মুক্ত কণ্ঠে বলতে চাই—মুসলমানের ঘরে জন্মেছি বলে নয়, আমার মনের দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই, খুব ভালোবেসে আমি ইসলাম ধর্ম নিজের ক্বলবে ধারণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে ভালো রাখুক। আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








