সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কার্যালয়ে সভা চলাকালে গত বুধবার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদকে লাঞ্ছিত করার ন্যক্কারজনক ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠানে জোর করে ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর ভরা সভায় চড়াও হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
আইইডিসিআর জাতীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। মহামারী প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণী গবেষণায় ইনস্টিটিউটটির অবদান অসামান্য। সেখানে কর্মরত গবেষক ও পরিচালককে সার্বক্ষণিক মানসিক চাপ সামলে প্রশাসনিক ও  বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পাদন করতে হয়। এ ধরনের উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাধর্মী সংস্থায় বলপ্রয়োগ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা পেশিশক্তির মহড়া কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
হঠকারী এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, দেশের সরকারি দফতরে নিরাপত্তাব্যবস্থা কত শিথিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যূহ ভেঙে বহিরাগত বা বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা কিভাবে সরাসরি পরিচালকের সভাকক্ষে প্রবেশ করতে পারেন? কিভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দুঃসাহস পেলেন? যেখানে পেশাগত বা যেকোনো অসন্তোষ, দাবিদাওয়া কিংবা অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো আছে। নিয়মতান্ত্রিক সেই পথে না গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা প্রশাসনিক কাঠামোগত শৃঙ্খলার পরিপন্থী। 
সরকারি কর্মকর্তারা যদি নিজ কার্যালয়ে অনিরাপদ থাকেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন; তাহলে দক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তা ও গবেষকরা কাজের মানসিক শক্তি ও উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। আইইডিসিআরের ঘটনা শুধু একজন শীর্ষ কর্মকর্তার অপমান নয়। দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত। তাই সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। 
এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে থেকে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করার বিষয়টি। যেহেতু সরকার সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের কয়েক কর্মী এ ঘটনার সাথে জড়িত। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গড়িমসি করা ঠিক হবে না। তাদের শাস্তি দেয়া না গেলে এর দায়ভার সরকারের ওপর বর্তাবে। এ ছাড়া দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে মাঠপ্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো আরো বেশি কষ্টসাধ্য হবে। আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়বে। সঙ্গত কারণে আইইডিসিআরসহ সব সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। 
সরকারি কার্যালয়ে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গবেষকদের সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং শঙ্কাহীন পরিবেশে কাজ করার নিশ্চয়তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ক্ষেত্রে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ জন্য দ্রুততার সাথে হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

Advertisement