
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। পণ্যের দাম বেড়েছে। পরিবহন খাতে ভাড়া বেড়েছে। ভাড়া শুধু বাড়েনি— রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে।
গত রোববার রাতে সরকার ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায়। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। মঙ্গলবার বিকেলে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। কিন্তু তার আগেই সব রুটে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। মূলত সোমবার সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাস, মিনিবাস ও লেগুনায় বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়। এমনকি দূরপাল্লার বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি নেয়া হয়। দূরপাল্লার বাসে নেয়া হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি। চট্টগ্রামেও একইভাবে ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্য দিকে ট্রাকের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়।
পরিস্থিতি এমন যেন দেশে সরকার বা প্রশাসন বলে কিছু নেই।
এই অবস্থা অবশ্য নতুন নয়। আগেও বিভিন্ন সরকারের সময় জ্বালানির দাম সামান্য বাড়ানো হলেই পরিবহন মালিকদের মধ্যে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা দেখা গেছে। সরকারিভাবে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসার আগেই পরিবহন মালিকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সাধারণ যাত্রীদের পকেট কেটে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা বাড়তি মুনাফা লুটে নেন। কোনো সরকারই এ প্রবণতা রোখার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময়ও এই ঘটনা ঘটবে, এমনটি সাধারণ মানুষ আশা করেনি; কিন্তু সেটিই ঘটছে।
সরকারিভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর পরও এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। ১৭ পয়সা হারে ভাড়া বাড়ানো হলে যে দূরত্বে পাঁচ টাকা বাড়ার কথা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। যে দূরত্বে ১০ টাকা বাড়ার কথা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ১৫ টাকা।
দেখেশুনে মনে হয়, পরিবহন মালিকরা সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। তাদের ওপর কোনো খবরদারি নেই। সরকার বা আইন-আদালত কারো কাছেই তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। বাজারের অবস্থাও একই। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেন। সরকারের নজরদারি অথবা পর্যবেক্ষণের থোড়াই কেয়ার করেন। এভাবে কোনো দেশ আদৌ চলতে পারে কি না ভেবে দেখা দরকার।
তেলের দাম বাড়ানো ও তার প্রভাবে সাধারণ মানুষ দুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জ্বালানি তেল কিনতে যেমন, তেমনি নিত্যপণ্য ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে। বাসে বাড়তি ভাড়া দাবি করায় পরিবহন শ্রমিকদের সাথে অনেক যাত্রীর কথাকাটাকাটি, এমনকি হাতাহাতির উপক্রম হচ্ছে।
যাদের নিজস্ব যানবাহন নেই, স্কুটার বা রিকশায় ওঠার সামর্থ্য নেই সেসব সাধারণ চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা শ্রমজীবীর জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ পড়ছে। অনেককে বাস বা টেম্পো বাদ দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। অনেকে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন না।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি। নৈরাজ্য রুখতে হবে সরকারকে।








