
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশীদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতাররা হলেন মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো: আবু তাহের লেন্টু (৫০)। অভিযোগ রয়েছে, তারা অন্য সহযোগীদের সাথে মিলে নির্মাণকাজের কথা বলে রাজন হোসেন (২১) নামে এক যুবককে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশীকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে রাজনকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় তার কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেয়ার পর আহত অবস্থায় পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন রাজন।
এসআরবি জানায়, দেশে ফেরার পর ক্ষতিপূরণ চাইলে মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় রাজনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল। একই দিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলার আরেক আসামি আবু তাহের লেন্টুকে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসআরবি জানিয়েছে, চক্রটি উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশীকে রাশিয়ায় নিয়ে যায় এবং পরে তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুইজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন বলে দাবি সংস্থাটির।
এদিকে, পৃথক অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১০। সোমবারর (১২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দক্ষিণ বাঘাপুরের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা-সংলগ্ন সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয়।
গ্রেফতাররা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের মো: রুহুল আমীন (২৬) ও মো: লিয়াকত (৪৩)।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, দুইটি মোবাইল ফোন এবং মাদক কেনাবেচার ১ হাজার ৩১০ টাকা জব্দ করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, মানব পাচার, মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধ বা প্রতারণার তথ্য নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা এসআরবিকে জানানোর জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








