বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট, বিসিবি, সারওয়ার ইমরান, নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ, ইমরানকে শোকজ, বিসিবির শোকজ, রফিকুল ইসলাম বাবু, এশিয়ান গেমস, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল
সারোয়ার ইমরান। সংগৃহীত

নারী ক্রিকেটে অস্থিরতা চলছিল বেশ কিছুদিন থেকেই। তবে এশিয়ান গেমসে দলের ব্যর্থতার পর তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পাকিস্তানের কাছে হারের পর প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরান প্রকাশ্যেই বোর্ডকে দাঁড় করিয়ে দেন কাঠগড়ায়।

Advertisement

এদিকে তার এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। একইসাথে ইমরানের মন্তব্যেরও জবাব দিয়েছেন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু।

মূলত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের কাছে হারের পর সারওয়ার ইমরান দলের ব্যর্থতার পেছনে টুর্নামেন্টের আগে কোচিং স্টাফ ও অধিনায়কত্ব নিয়ে পরিবর্তনের আলোচনা থাকার কথা বলেন। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের ইমরান বলেন, ‘আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, আর আপনারা প্রধান কোচ ও অধিনায়ককে সাইজ করছেন। তাহলে কীভাবে ভালো কিছু আশা করবেন?’

ইমরানের এসব বক্তব্য অবশ্য ভালোভাবে নেয়নি বিসিবি। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বলেছেন, ব্যর্থতার পর কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তার ভাষায়, ‘ফুটবল হোক কিংবা ক্রিকেট, কোনো দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারলে কোচ ও অধিনায়ককে দায়ী করা স্বাভাবিক। খারাপ পারফরম্যান্সের পর কোচকে বরখাস্ত করা হয়, অধিনায়ক পরিবর্তন করা হয়। এতে নতুন কিছু নেই।’

ইমরানের ‘টুর্নামেন্টের মধ্যে কোচ ও অধিনায়ককে সাইজ করা হয়েছে’—এমন মন্তব্যেরও জবাব দিয়েছেন বাবু। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কি আনুষ্ঠানিকভাবে একবারও বলেছি যে কোচ বা অধিনায়ক পরিবর্তন করা হবে?’

এসব কারণে ইমরানকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বাবু বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সারওয়ার ইমরানকে শোকজ করব। একজন সিনিয়র কোচ কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন?’

তিনি জানান, ইমরান দেশে ফেরার পর তার সাথে দলের উন্নতি নিয়েও আলোচনা করা হবে।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে পদক না পাওয়ার পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি দল পরিচালনা, অধিনায়কত্ব ও কোচিং কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে সামনে এনেছে নারী ক্রিকেটের ভেতরের টানাপোড়েনের বিষয়টি।