
আমি কি চিকিৎসা নেব, নাকি কাগজপত্র সংশোধনের জন্য দফতরে দফতরে ঘুরব? জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের চেয়ে কি এখন কাগজপত্রের লড়াই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? এমন প্রশ্ন রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়েছেন বৈশাখী টেলিভিশন ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার নাটোর প্রতিনিধি ইসাহাক আলী। জীবন-মৃত্যুর চরম অনিশ্চয়তা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জটিলতার মুখোমুখি হয়ে তিনি তার পোস্টে জীবন বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত মানবিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করা পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
ফেসবুক পোস্টে ইসাহাক আলী উল্লেখ করেন, পেশাগত জীবনে তিনি সবসময় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অন্যায়-অবিচার ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ আজ নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটতে হচ্ছে।
কিডনি ও স্ট্রোকজনিত জটিলতায় জীবন সংকটাপন্ন
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং গত তিন বছর ধরে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় ভুগছেন জানিয়ে ওই সংবাদকর্মী বলেন, বর্তমানে তার কিডনির কার্যক্ষমতা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা প্রায় ১০-এর কাছাকাছি। নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এমনকি প্রায় সাতদিন আইসিইউতে থেকে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন তার দ্রুত দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছেন।
পরিচয় জটিলতার নেপথ্য ইতিহাস
পারিবারিক জীবনের বেদনাদায়ক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, জন্মের পর থেকেই বড় চাচা আলতাফ হোসেন ও মা সালেহা বেগমের কাছে তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন এবং তাদেরই নিজের বাবা-মা হিসেবে জেনে এসেছেন। পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, তার প্রকৃত বাবা হলেন এতদিন মেজ চাচা হিসেবে জেনে আসা সুলতান মাহমুদ ও প্রকৃত মা কমলা বেগম।
জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে পালিত পিতা-মাতার নাম থাকায় এবং জমিজমার দলিলপত্র প্রকৃত পিতার নামে থাকায় সম্পত্তি বেচাকেনা ও দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও এফিডেভিটসহ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের পর্যায়ে এসে কঠিন প্রতিকূলতায় পড়েন।
নির্বাচন কমিশনের শর্ত ও বাস্তবতা
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী ইসাহাক আলী জানান, বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সরেজমিনে তার বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। প্রতিবেশী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে পারিবারিক বাস্তবতার সত্যতা পাওয়ার পরও তাকে রাজশাহী বিভাগীয় নির্বাচন কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। শিক্ষাগত সনদ আপাতত কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না মর্মে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেয়া সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি সনদ সংশোধন করে জমা দেয়ার মেসেজ দেয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া মেনে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সনদ সংশোধন করা অসম্ভব।
এ অবস্থায় শয্যাশায়ী পালিত বাবা ও ঢাকায় অবস্থানরত প্রকৃত বাবা-মাকে নিয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।
কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীর চার দাবি
আইন ও বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিক ইসাহাক আলী মানবিক বিবেচনায় তার চারটি দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো (১) তার গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও জরুরি চিকিৎসার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা। (২) উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনকে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্রের জটিলতা নিরসনের ব্যবস্থা করা। (৩) এসএসসি ও এইচএসসি সনদ সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া অনুযায়ী যুক্তিসংগত সময় দেয়া। (৪) শিক্ষা বোর্ডের সংশোধিত সনদ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত আইনসম্মতভাবে এনআইডি সংশোধন ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পাসপোর্টসহ অন্যান্য দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করার বিকল্প ব্যবস্থা করা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জীবন রক্ষার্থে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন এবং দেশের বিবেকবান মানুষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








