সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, আন্দোলন, উপজেলা, ট্রেন
রেললাইন আটকে অবরোধ। নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

Advertisement

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত নেন। সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আমাদের কথায় সম্মত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসবে। সেখানে সংসদ সদস্যও উপস্থিত থাকবেন।’

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম আলাদা করে বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। গ্রামগুলো হলো—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল। নতুন ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।

এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ছয়টি গ্রামকে আগের মতো বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এর মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নের অংশ বিশেষ নিয়ে বরিশল নামে নতুন উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাব সামনে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি দাফতরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।

অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস। এছাড়া সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা ও কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। একই সাথে আখাউড়া-আগরতলা সড়ক বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।