
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আলোচনা সভা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) লুৎফুন নাহারের দেয়া একটি বক্তব্য ও ব্যানারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখার বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা গুঞ্জন।
বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও তৎপরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।
জানা যায়, ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠান চলাকালে তার বক্তব্যের একটি ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ পরে ‘বিএনপি নেটওয়ার্ক-চুয়াডাঙ্গা-২’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে ডিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশ বেশ কিছুদিন অভিভাবকহীন ছিল। পরে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ মেজর জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন এবং ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ এক বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। যা দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শঙ্কিত করে তোলে।’
জেলা প্রশাসকের এই ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ও বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ প্রকাশ্যে আসতেই চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো একটি বিশেষ দিনে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার মুখ থেকে এ ধরনের মন্তব্য ও ব্যানারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
তাদের অভিযোগ, ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা ও সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের দিনটিতে অন্য একটি প্রেক্ষাপট টেনে আনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার পারদ ক্রমশ বাড়ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








