
বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সব ভেদাভেদ ভুলে এক প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যবসা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের অফিস চত্বরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেলের সভাপতিত্বে সভায় বন্দর এলাকার আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংসদ সদস্য ব্যবসায়ীদের কাছে বন্দরের নানা সমস্যার কথা জানতে চান।
এ সময় তারেক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, বিগত সরকারের সময়ে প্রতিদিন ছয় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ভুটান থেকে বাংলাবান্ধা বন্দরে একটি ট্রাক মাসে প্রায় বিশবার পণ্য পরিবহন করলেও বুড়িমারীতে তা মাত্র চারবারে নেমে আসে। ভারতীয় অংশের চাংড়াবান্ধা ট্রাক সিন্ডিকেট এবং ব্যবসায়ীদের অনৈক্যকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী।
সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ১১টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীত করা, পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে বিজিবির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বন্দরের স্কেলে সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং আমদানি নিষিদ্ধ ১৮টি পণ্য চালুর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে ব্যারিস্টার রাজিব প্রধান বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিন বা না দিন, আমি আপনাদের সবার এমপি। আমার কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ বা ইচ্ছা নেই, তবে আপনারা সহযোগিতা চাইলে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। বন্দরের উন্নয়নে যেভাবে কাজ করা দরকার, আমি সেভাবেই করব। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনে এনবিআর চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাব।’
তিনি বলেন, বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট বড়বাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কের ১৭টি স্থানে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এই মহাসড়কটি ফোর লেনে রূপান্তর করতে সরকারের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সভায় ব্যবসায়ী আমির হামজা, রফিকুল ইসলাম প্রধান, সুমন, আজাদ, পরাগ, রবিউল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর সওদাগর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








