নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনে বিশেষ প্রস্তুতি সভা
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনে বিশেষ প্রস্তুতি সভা। নয়া দিগন্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের অনন্য উদ্যোগ।’

Advertisement

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারেই প্রধানমন্ত্রীর খেলাধুলাকে প্রাধান্য দেয়ার ঘোষণা ছিল এবং বর্তমানে সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।’ 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নগরভবনের সভাকক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে এবং শিশু-কিশোরদের সুপ্ত মেধার বিকাশে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’। এ উপলক্ষে ওই বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে সারাদেশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন করবেন। ৬৪ জেলায় একযোগে এই ইভেন্ট যুক্ত হবে। এ উপলক্ষে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। আয়োজনে সিলেট সিটি করপোরেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এই কর্মসূচিটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, গত বছরের ২ মে সিলেট থেকেই প্রধানমন্ত্রী এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেছিলেন।’

এবারের টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনে সবার সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের একটি অনন্য উদ্যোগ। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি সিটি করপোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ও প্রস্তুতি শুরু করেছি। নগরের বিভিন্ন মহল্লার পরিত্যক্ত জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে মাঠে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আওতাধীন মাঠগুলোরও সংস্কার কার্যক্রম চালানো হবে।’

সভায় জানানো হয়, তৃণমূলের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সুযোগ করে দিতেই এই অনন্য উদ্যোগ। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সিলেট জেলায় ৪০ হাজার ও সিলেট মহানগর এলাকায় তিন হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।

১ সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে ৩১ আগস্ট ২০১৬-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারী সকল ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে (তবে দাবা খেলায় আট থেকে ১৪ বছর বয়সীরা অংশ নিতে পারবে)।

১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিস— এই ১০টি জনপ্রিয় ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে প্রতিযোগিতাটি পর্যায়ক্রমে জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের সভাপতিত্বে ও সচিব মো: আশিক নূরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচন, সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মাসুদ রানা, সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম, সিসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাশ ও নুসরাত লায়লা নীরা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো: নূর হোসেন, সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ একলিম আবেদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রাজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিএসবির সিআইও-১ সৈয়দ আনিসুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সুমিত রায়, সিলেট জেলা নারী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস তুলি, সিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, লাইসেন্স কর্মকর্তা রুবেল আহমদ নান্নুসহ সিসিক ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।