
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জানাজায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের উপস্থিতি না থাকার পাঁচ দিন পর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল মুক্তিযোদ্ধা।
এ সময় মানিক পশারীর জানাজায় যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগ তোলা হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযোদ্ধারা জানান, কারা বাধা দিয়েছে, তা তারা চেনেন না।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সহযোগিতা করেন। মানববন্ধনে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক, সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক, জেলা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রাজ্জাক সরদার, জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান ধরানী, পিরোজপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ এবং সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদারসহ অন্যরা।
মানিক পশারীর জানাজায় যেতে বাধা দেয়া হয়েছিল বলে মানববন্ধনে অভিযোগ তোলা হয়। তবে কারা বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা জানান, তারা বাধাদানকারীদের চেনেন না। ফলে কারা, কীভাবে এবং কেন তাদের বাধা দিয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন দাবি করেছেন, মানিক পশারী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
তার অভিযোগ, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও সাক্ষী হওয়ার প্রায় দুই মাস পর তৎকালীন সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট গেজেটের তথ্য হিসেবে ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ এবং ২৯৩২ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গেজেটভুক্তির সময়, প্রক্রিয়া ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি এবং মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আব্দুস সালাম বাতেনের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব দাবি ও বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
মানববন্ধনে যুবদল নেতা পলাশ মাহমুদ, ইফতেখার আহমেদ অপু এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক গোলাম আহমেদ নাদিমসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
মানিক পশারীর জানাজায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের অনুপস্থিতি, জানাজায় যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগ এবং তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সরকারি নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








